BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট)

একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকে রেখে দেওয়া, বিনিময়ে আগে থেকে ঠিক করা হারে সুদ। বাংলাদেশে সবচেয়ে চেনা সঞ্চয়ের একটি।

ভিডিও আসছে
এফডিআর: ব্যাংকে মেয়াদি আমানত

এফডিআর কী

এফডিআর মানে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট, বাংলায় মেয়াদি আমানত। আপনি ব্যাংককে কিছু টাকা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখতে দেন, আর কথা দেন যে এই সময়ের মধ্যে তুলবেন না। বিনিময়ে ব্যাংক আপনাকে সুদ দেয়, যার হার শুরুতেই ঠিক হয়ে যায়।

ব্যাংক আপনার টাকা অন্যদের ঋণ দিয়ে আয় করে, আর সেই আয়ের একটা অংশ সুদ হিসেবে আপনাকে দেয়। টাকা না তোলার প্রতিশ্রুতি দেন বলেই সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে এখানে সুদ সাধারণত বেশি।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক রহিমা অফিসের বোনাস থেকে ৳ ৫০,০০০ জমিয়েছেন, যা আগামী এক বছর লাগবে না। তিনি এক বছরের একটা এফডিআর খুললেন, ধরা যাক বছরে ১০% হারে। বছর শেষে ব্যাংক তাঁকে মূল ৳ ৫০,০০০ ফেরত দেবে, সঙ্গে কর কাটার আগে ৳ ৫,০০০ সুদ।

কীভাবে কাজ করে

আপনি একবারে একটা অঙ্ক ব্যাংকে জমা দেন এবং মেয়াদ বেছে নেন: সাধারণত ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর বা ৩ বছর। খোলার দিন যে সুদের হার ঠিক হয়, পুরো মেয়াদে সেটাই থাকে। মেয়াদ শেষে মূল টাকা আর সুদ একসঙ্গে পান।

মেয়াদ শেষে টাকা না তুললে অনেক ব্যাংক এফডিআর নিজে থেকেই নবায়ন (অটো-রিনিউ) করে, তবে তখনকার চালু হারে, আগের হারে নয়।

মেয়াদের আগে ভাঙালে ব্যাংক সাধারণত কম হারে সুদ দেয়, খুব অল্প সময় পরে ভাঙালে সুদ না-ও দিতে পারে। নিয়মটা ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই খোলার সময় জেনে নিন।

উদাহরণ (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)

৳ ১,০০,০০০ এক বছরের জন্য বছরে ১০% হারে রাখলে সুদ হয় ৳ ১০,০০০। ১০% উৎসে কর কাটার পর হাতে আসে ৳ ৯,০০০। হারটা উদাহরণ মাত্র; আসল হার ব্যাংক, মেয়াদ আর সময়ভেদে বদলায়।

যেসব রূপে পাওয়া যায়

সাধারণ এফডিআর
মেয়াদ শেষে মূল টাকা ও সুদ একসঙ্গে।
মাসিক বা ত্রৈমাসিক মুনাফার স্কিম
মূল টাকা আটকে থাকে, সুদ নিয়মিত হাতে আসে। অনেক ব্যাংক এগুলোকে আলাদা স্কিম নামে বিক্রি করে।
ইসলামি মেয়াদি আমানত (মুদারাবা)
সুদের বদলে লাভ ভাগাভাগির চুক্তি; মুনাফার হার আগে আনুমানিক, পরে চূড়ান্ত হয়।
এফডিআরের বিপরীতে ঋণ
এফডিআর না ভেঙে সেটা জামানত রেখে ঋণ নেওয়া যায়; ঋণের সুদ সাধারণত এফডিআরের হারের চেয়ে কিছুটা বেশি।

আপনার টাকা কতটা সুরক্ষিত

এফডিআরের টাকা ফেরত দেওয়ার দায় ব্যাংকের। ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানত সুরক্ষা আইনে প্রতি আমানতকারী প্রতি ব্যাংকে একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত টাকা ফেরত পান। আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী এই সীমা ২ লাখ টাকা। এর বেশি টাকা কতটা নিরাপদ, তা নির্ভর করে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর।

তাই বড় অঙ্ক হলে অনেকে একাধিক ব্যাংকে ভাগ করে রাখেন। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নিজে কীভাবে যাচাই করবেন, তা নিয়ে KhanFT-এ আলাদা ভিডিও আসছে।

কত লাভ আশা করা যায়

এফডিআরের হার এক জায়গায় স্থির থাকে না। ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ঋণের সুদে সীমা থাকায় আমানতের হার অনেক ব্যাংকে ৫–৭%-এর আশপাশে ছিল। ২০২৪-এ সুদের হার বাজারভিত্তিক হওয়ার পর বহু ব্যাংকের হার ৯–১২%-এ উঠেছে।

একই সময়ে কোনো ব্যাংক অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হার দিলে প্রশ্ন করুন কেন। আমানত টানতে দুর্বল ব্যাংক প্রায়ই বেশি হার দেয়, অর্থাৎ বাড়তি হারের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকিও আসতে পারে।

আসল লাভ বুঝতে কর আর মূল্যস্ফীতি বাদ দিয়ে হিসাব করুন। গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি কখনো কখনো ৯–১০%-এর কাছে ছিল, তখন কর কাটার পর এফডিআরের প্রকৃত লাভ প্রায় শূন্য বা তার নিচে নেমেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদহার পরিসংখ্যান, ২০২০–২০২৬; মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ২০২৩–২০২৫

যে কারণে মানুষ বেছে নেয়

  • খোলা সহজ, প্রায় সব ব্যাংকে পাওয়া যায়।
  • মেয়াদ জুড়ে হার নির্দিষ্ট, তাই আগেই জানা যায় কত পাবেন।
  • ছোট মেয়াদও আছে, তাই অল্প সময়ের জন্য টাকা রাখা যায়।
  • ভাঙানো না লাগলে এফডিআরের বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায়।

যা ভেবে দেখার

  • মূল্যস্ফীতি বেশি হলে প্রকৃত লাভ খুব কম বা ঋণাত্মক হতে পারে।
  • মেয়াদের আগে ভাঙালে সুদ কমে যায়।
  • আমানত সুরক্ষার সীমার বেশি টাকার নিরাপত্তা ব্যাংকের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
  • অটো-রিনিউ হলে নতুন হার আগের চেয়ে কম হতে পারে।

কর

সুদ দেওয়ার সময় ব্যাংক উৎসে কর কেটে রাখে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার ছিল টিআইএন থাকলে ১০% আর না থাকলে ১৫%; প্রতি বছরের অর্থ আইনে হার বদলাতে পারে।

এফডিআরের সুদ আপনার মোট আয়ের অংশ। রিটার্ন জমা দিলে কেটে রাখা কর আপনার মোট করের সঙ্গে সমন্বয় হয়।

এ ছাড়া হিসাবের স্থিতি একটা সীমা ছাড়ালে বছরে একবার আবগারি শুল্ক কাটা হয়। কত অঙ্কে কত টাকা, তা অর্থ আইনে নির্ধারিত হয় এবং মাঝে মাঝে বদলায়।

করের নিয়ম প্রতি বছরের অর্থ আইনে বদলাতে পারে। বড় সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ নিয়ম বা একজন কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কীভাবে শুরু করবেন

  1. ব্যাংক বেছে নিন। শুধু হার নয়, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও দেখুন।
  2. কাগজপত্র নিয়ে যান: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নমিনির পরিচয়পত্র ও ছবি, আর টিআইএন থাকলে সেটি।
  3. অনেক ব্যাংকে আগে একটা সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব খুলতে হয়; সুদ সেখানে জমা হয়।
  4. মেয়াদ, হার, অটো-রিনিউ আর আগে ভাঙানোর নিয়ম লিখিতভাবে জেনে নিন।
  5. এফডিআরের রসিদ বা সার্টিফিকেট নিরাপদে রাখুন।

শুরুর আগে যাচাই করুন

  • মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কি এই টাকা লাগতে পারে?
  • একই মেয়াদের জন্য কয়েকটা ব্যাংকের হার তুলনা করেছি?
  • হার যদি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হয়, কারণটা বুঝেছি?
  • এক ব্যাংকে আমার মোট আমানত কি সুরক্ষার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে?
  • অটো-রিনিউ চালু আছে কি না, জানি?
  • নমিনি ঠিকমতো দেওয়া আছে?

কাছাকাছি আর যা আছে

সূত্র
সুদের হার: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সুদহার পরিসংখ্যান, ২০২০–২০২৬।
আমানত সুরক্ষার সীমা: আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ (সংসদে পাস, এপ্রিল ২০২৬)।
উৎসে কর: আয়কর আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট অর্থ আইন।
মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
এই পাতার সংখ্যাগুলো একটা সময়ের পরিসর, নির্দিষ্ট দিনের হার নয়। আজকের হার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন। এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়।