BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

প্রাইজ বন্ড

১০০ টাকার সরকারি বন্ড, যাতে কোনো সুদ নেই; বদলে বছরে চারবার ড্রয়ে পুরস্কার জেতার সুযোগ। মূল টাকা যেকোনো সময় ফেরত পাওয়া যায়।

ভিডিও আসছে
প্রাইজ বন্ড: সুদ নেই, আছে ড্র

প্রাইজ বন্ড কী

প্রাইজ বন্ড হলো সরকারের কাছ থেকে কেনা ছোট একটা কাগজের বন্ড, অনেকটা লটারির টিকিটের মতো, তবে এতে টাকা হারায় না। টাকাটা সরকারের কাছে থাকে, আর বন্ডের গায়ে থাকে একটা নম্বর। সুদ বা মুনাফা কিছু আসে না; বদলে নিয়মিত ড্রয়ে আপনার নম্বর উঠলে পুরস্কার পান।

পুরস্কার না উঠলেও বন্ড ফেরত দিয়ে কেনা দামটাই ফেরত পাওয়া যায়। তাই আসল হিসাবটা হলো: টাকাটা অন্য কোথাও রেখে যে আয় হতে পারত, সেটা ছেড়ে দিয়ে আপনি ভাগ্যের ওপর ভরসা করতে চান কি না।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক ফারহানা ঈদের সালামির ১,০০০ টাকা দিয়ে ১০টা প্রাইজ বন্ড কিনল। এক বছরে চারটা ড্র হলো, কিন্তু তার কোনো নম্বর উঠল না। বছর শেষে বন্ডগুলো ভাঙিয়ে সে আবার ১,০০০ টাকাই পেল, এক টাকাও বেশি না। নম্বর উঠলে পুরস্কার পেত; না ওঠায় সে শুধু ওই টাকা অন্য কোথাও রেখে যা আয় হতে পারত, সেটা পেল না।

কীভাবে কাজ করে

প্রাইজ বন্ড ১০০ টাকা মূল্যমানের সরকারি বন্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক আর ডাকঘরে কেনা ও ভাঙানো যায়। এতে কোনো সুদ বা মুনাফা নেই; বন্ড রেখে দিলে প্রতিটি ড্রয়ে আপনার নম্বর পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়।

ড্র হয় বছরে চারবার: ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই আর ৩১ অক্টোবর। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি ড্র পরিচালনা করে। ড্রয়ের অন্তত ৬০ দিন আগে কেনা বন্ডই কেবল ওই ড্রয়ে অংশ নেয়।

বন্ডগুলো আলাদা আলাদা সিরিজে (যেমন কক, কখ) ভাগ করা। প্রতি ড্রয়ে ৪৬টি নম্বর বাছাই হয়, আর প্রতিটি সিরিজে ওই নম্বরের বন্ড একই পুরস্কার পায়। বন্ডে কারও নাম লেখা থাকে না, তাই হারালে বা নষ্ট হলে ফেরত পাওয়া কঠিন।

উদাহরণ (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)

প্রতি সিরিজে প্রতি ড্রয়ে মোট পুরস্কার ৳ ১৬,২৫,০০০। একটা সিরিজে আনুমানিক ১০ লাখ নম্বর থাকলে, পুরো সিরিজের ৳ ১০ কোটির বিপরীতে বছরে চার ড্রয়ে পুরস্কার দাঁড়ায় ৳ ৬৫ লাখ, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় ০.৬৫%। ২০% কর কাটার পর গড়ে প্রায় ০.৫%। তবে এটা সবার গড়; বেশির ভাগ বন্ড কখনো কিছু জেতে না, অল্প কয়েকটা জেতে।

প্রতি সিরিজে পুরস্কার

প্রথম পুরস্কার (১টি)
৳ ৬,০০,০০০
দ্বিতীয় পুরস্কার (১টি)
৳ ৩,২৫,০০০
তৃতীয় পুরস্কার (২টি)
প্রতিটি ৳ ১,০০,০০০
চতুর্থ পুরস্কার (২টি)
প্রতিটি ৳ ৫০,০০০
পঞ্চম পুরস্কার (৪০টি)
প্রতিটি ৳ ১০,০০০

পুরস্কার দাবি করা

ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে মূল বন্ড জমা দিতে হয়; যাচাই শেষে পে-অর্ডারে টাকা দেওয়া হয়। ড্রয়ের ফল থেকে দুই বছরের মধ্যে দাবি না করলে পুরস্কারের টাকা সরকারি কোষাগারে চলে যায়।

ফল সংবাদপত্রে আর বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়। নিজের বন্ডের নম্বর আর সিরিজ আলাদা করে লিখে রাখলে মেলাতে সুবিধা হয়।

শরিয়াহ প্রশ্ন

প্রাইজ বন্ডে সুদ নেই, তবে পুরস্কার আসে ভাগ্যের ওপর। এটা শরিয়াহসম্মত কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে নিজের আস্থাভাজন আলেমের সঙ্গে কথা বলুন।

কত লাভ আশা করা যায়

প্রাইজ বন্ডে কোনো নিশ্চিত আয় নেই। পুরস্কারের অঙ্ক অন্তত ২০০৭ সাল থেকে একই আছে, প্রতি সিরিজে প্রতি ড্রয়ে মোট ৳ ১৬.২৫ লাখ। সব বন্ড মিলিয়ে গড় হিসাবে এটা বছরে প্রায় ০.৫–০.৬৫%, যা সঞ্চয়ী হিসাবের সুদের চেয়েও অনেক কম।

যেহেতু পুরস্কারের অঙ্ক বহু বছর একই, মূল্যস্ফীতিতে এর প্রকৃত মূল্য কমেছে। ১০০ টাকার বন্ড ১০০ টাকাই থাকে; দাম বাড়েও না, কমেও না, কিন্তু সেই ১০০ টাকায় কেনা যায় কম।

জেতার সম্ভাবনা কম: একটা বন্ডের কোনো একটা ড্রয়ে যেকোনো পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা মোটামুটি ২২ হাজারে ১ (প্রতি সিরিজে ১০ লাখ নম্বর ধরে)। প্রথম পুরস্কারের সম্ভাবনা আরও অনেক কম।

সূত্র: পুরস্কার-কাঠামো: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (৩১ জুলাই ২০০৭), ঢাকা ট্রিবিউন (ফেব্রুয়ারি ২০২২), ইউএনবি ও ঢাকা টাইমস (৩০ এপ্রিল ২০২৬); গড় হার KhanFT-এর হিসাব

যে কারণে মানুষ বেছে নেয়

  • মূল টাকা সরকারের দায়, আর যেকোনো সময় অভিহিত মূল্যে ভাঙানো যায়।
  • মাত্র ১০০ টাকায় শুরু করা যায়।
  • একবার কিনলে প্রতিটি ড্রয়ে আপনাআপনি অংশ নেয়।
  • উপহার হিসেবে দেওয়া সহজ।

যা ভেবে দেখার

  • কোনো নিশ্চিত আয় নেই; বেশির ভাগ বন্ড কিছুই জেতে না।
  • গড় আয় খুবই কম, মূল্যস্ফীতিতে টাকার মূল্য কমে যায়।
  • বন্ডে নাম থাকে না; হারালে বা নষ্ট হলে ঝুঁকি।
  • দুই বছরের মধ্যে দাবি না করলে পুরস্কার হারান।

কর

পুরস্কারের টাকা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১১৮ অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার ছিল ২০%; অর্থ আইনে হার বদলাতে পারে।

বন্ড কেনা বা অভিহিত মূল্যে ভাঙানোয় কোনো কর নেই, কারণ সেখানে কোনো লাভ হয় না।

করের নিয়ম প্রতি বছরের অর্থ আইনে বদলাতে পারে। বড় সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ নিয়ম বা একজন কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কীভাবে শুরু করবেন

  1. বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা ডাকঘরে যান।
  2. ১০০ টাকা মূল্যের যতগুলো চান কিনুন।
  3. প্রতিটি বন্ডের নম্বর ও সিরিজ আলাদা করে লিখে রাখুন, বন্ড নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
  4. প্রতি ড্রয়ের পর ফল মিলিয়ে দেখুন।

শুরুর আগে যাচাই করুন

  • এটাকে সঞ্চয় হিসেবে দেখছি, নাকি ভাগ্য পরীক্ষা হিসেবে, পরিষ্কার?
  • এই টাকা অন্য কোথাও রাখলে নিশ্চিত কত পেতাম, তুলনা করেছি?
  • বন্ডের নম্বর লিখে রেখেছি?
  • ড্রয়ের ফল কোথায় দেখব আর পুরস্কার কীভাবে দাবি করব, জানি?

কাছাকাছি আর যা আছে

সূত্র
পুরস্কার-কাঠামো ও ড্রয়ের তারিখ: ঢাকা ট্রিবিউন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২; দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ৩১ জুলাই ২০০৭।
১২৩তম ড্র, ৬০ দিনের নিয়ম, সিরিজ ও ২০% কর: ইউএনবি, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও ঢাকা টাইমস, ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
দুই বছরের দাবির মেয়াদ ও দাবি করার নিয়ম: ঢাকা ট্রিবিউন ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ফেব্রুয়ারি ২০২২।
পুরস্কারে কর: আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ১১৮।
এই পাতার সংখ্যাগুলো একটা সময়ের পরিসর, নির্দিষ্ট দিনের হার নয়। আজকের হার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন। এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়।