BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

ডাকঘর সঞ্চয়

ডাকঘরে খোলা সঞ্চয়ী বা মেয়াদি হিসাব, যার টাকা ফেরতের দায় সরকারের। দেশের প্রায় সব প্রান্তে ডাকঘর আছে, তাই অনেকের কাছে এটাই সবচেয়ে কাছের সরকারি সঞ্চয়।

ভিডিও আসছে
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক: সাধারণ ও মেয়াদি হিসাব

ডাকঘর সঞ্চয় কী

ডাকঘর শুধু চিঠি পাঠানোর জায়গা নয়; সেখানে সঞ্চয়ের হিসাবও খোলা যায়। এই হিসাবে রাখা টাকা আসলে সরকারকে ধার দেওয়া, তাই ফেরত দেওয়ার দায় সরকারের, কোনো ব্যাংকের নয়। বিনিময়ে সরকার সুদ বা মুনাফা দেয়।

দেশের প্রায় সব প্রান্তে ডাকঘর আছে, তাই যেখানে কাছে ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানেও সরকারি সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক গ্রামে দর্জির কাজ করা শিরিন ৳ ৬০,০০০ জমিয়েছেন। কাছের ব্যাংক শাখা অনেক দূরে, কিন্তু বাজারের পাশেই ডাকঘর। তিনি সেখানে একটা হিসাব খুলে টাকাটা রাখলেন: টাকা আর ঘরে পড়ে থাকল না, কিছু মুনাফাও আসবে, আর ফেরত দেওয়ার দায় সরকারের।

কীভাবে কাজ করে

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক চালায় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, আর হিসাব খোলা ও লেনদেন হয় ডাকঘরের মাধ্যমে। এখানে জমা রাখা টাকা আসলে সরকারকে ধার দেওয়া, তাই ফেরতের দায় সরকারের।

দুই ধরনের হিসাব আছে। সাধারণ হিসাব অনেকটা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবের মতো: টাকা জমা আর তোলা যায়, সুদ কম। মেয়াদি হিসাবে একবারে একটা অঙ্ক তিন বছরের জন্য রাখা হয়; হার সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে একই সরকারি তালিকায় ঠিক হয়।

মেয়াদি হিসাব খোলার দিন যে হার থাকে, পুরো মেয়াদে সেটাই প্রযোজ্য। মেয়াদের আগে তুললে যত বছর রেখেছেন সেই অনুযায়ী কম হারে মুনাফা হিসাব হয়।

উদাহরণ (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)

মেয়াদি হিসাবে ৳ ১,০০,০০০ তিন বছরের জন্য বছরে ১২% হারে রাখলে বছরে মুনাফা ৳ ১২,০০০, তিন বছরে ৳ ৩৬,০০০। ১০% উৎসে কর কাটলে হাতে আসে ৳ ৩২,৪০০। হারটা উদাহরণ মাত্র; আসল হার অঙ্ক আর খোলার সময়ভেদে আলাদা।

দুই ধরনের হিসাব

সাধারণ হিসাব
টাকা জমা-তোলা যায়; সুদ মেয়াদি হিসাবের চেয়ে কম, বছর শেষে মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়।
মেয়াদি হিসাব (৩ বছর)
একবারে একটা অঙ্ক তিন বছরের জন্য; হার ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সমান রাখা হয়।

সীমা আর কাগজপত্র

একজন কত টাকা রাখতে পারবেন, তার সীমা আছে। ২০২০ সাল থেকে এই সীমা একক নামে ১০ লাখ আর যৌথ নামে ২০ লাখ টাকা বলে জানা যায়; তার আগে ছিল ৩০ ও ৬০ লাখ। সীমা আবার বদলাতে পারে, তাই খোলার আগে ডাকঘরে জেনে নিন।

২০২০ সালে ডাকঘর সঞ্চয় অনলাইন ব্যবস্থায় আসার পর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে, আর বড় অঙ্কে টিআইএন চাওয়া হয়। কোন অঙ্কে কী লাগে, তা সময়ে সময়ে বদলায়।

কত লাভ আশা করা যায়

মেয়াদি হিসাবের হার বহু বছর ছিল প্রায় ১১.২৮%। সেপ্টেম্বর ২০২১-এ বড় অঙ্কে হার কমিয়ে প্রায় ৯.৩–১০.৩% করা হয়। জানুয়ারি ২০২৫-এ দুই স্তরে হার হয় প্রায় ১২.২৫–১২.৩০%, আর জুলাই ২০২৫ থেকে প্রায় ১১.৭৭–১১.৮২%।

২০২০ সালের শুরুতে কয়েক সপ্তাহের জন্য মেয়াদি হিসাবের হার ৬%-এ নামানো হয়েছিল, পরে আগের হারে ফেরানো হয়। এতে বোঝা যায়, সরকারি সিদ্ধান্তে হার হঠাৎ বদলাতে পারে, যদিও খোলা হিসাবের হার মেয়াদ জুড়ে বহাল থাকে।

সাধারণ হিসাবের হার ২০২০–২০২১ সালে ৭.৫% বলে জানা যায়, আর পরের পর্যালোচনাগুলোতে এটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রকৃত লাভ বুঝতে কর আর মূল্যস্ফীতি বাদ দিন।

সূত্র: অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন, দ্য ডেইলি স্টার (২০২০, ২০২১), দৈনিক ইত্তেফাক (জানুয়ারি ২০২৫), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো (জুলাই ২০২৫), বাংলা ট্রিবিউন (জুলাই ২০২৬)

যে কারণে মানুষ বেছে নেয়

  • টাকা ফেরতের দায় সরকারের।
  • ডাকঘর প্রায় সব এলাকায় আছে, ব্যাংক দূরে হলেও খোলা যায়।
  • মেয়াদি হিসাবের হার সঞ্চয়পত্রের কাছাকাছি।
  • সাধারণ হিসাবে টাকা জমা-তোলা যায়।

যা ভেবে দেখার

  • জমার সীমা সঞ্চয়পত্রের চেয়ে কম।
  • মেয়াদের আগে তুললে মুনাফা কমে।
  • সাধারণ হিসাবের সুদ কম; মূল্যস্ফীতি বেশি হলে প্রকৃত লাভ ঋণাত্মক হতে পারে।
  • কিছু ডাকঘরে সেবা ধীর হতে পারে, কাজের জন্য সশরীরে যেতে হতে পারে।

কর

মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। আয়কর আইন ২০২৩ ও প্রতি বছরের অর্থ আইনে হার ঠিক হয় এবং সময়ে সময়ে বদলায়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সঞ্চয় উপকরণে এই হার সাধারণত ৫–১০%-এর মধ্যে ছিল।

মুনাফা আপনার মোট আয়ের অংশ। রিটার্ন জমা দিলে কেটে রাখা কর আপনার মোট করের সঙ্গে সমন্বয় হয়, আর বেশি কাটা হলে ফেরত চাওয়া যায়।

করের নিয়ম প্রতি বছরের অর্থ আইনে বদলাতে পারে। বড় সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ নিয়ম বা একজন কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কীভাবে শুরু করবেন

  1. কাছের যে ডাকঘরে সঞ্চয় ব্যাংকের সেবা আছে, সেখানে যান।
  2. কাগজপত্র নিন: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নমিনির পরিচয়পত্র ও ছবি, আর প্রয়োজনে টিআইএন।
  3. সাধারণ না মেয়াদি হিসাব, ঠিক করুন; মেয়াদি হলে হার আর আগে তোলার নিয়ম লিখিতভাবে জেনে নিন।
  4. পাসবই বা রসিদ নিরাপদে রাখুন।

শুরুর আগে যাচাই করুন

  • মেয়াদি হিসাবের টাকা কি তিন বছরের মধ্যে লাগতে পারে?
  • আমার মোট জমা কি ডাকঘর সঞ্চয়ের সীমার মধ্যে?
  • খোলার দিনের হার কত, আর কোন স্তরে পড়ছি জেনেছি?
  • টিআইএন লাগবে কি না, জেনে নিয়েছি?
  • নমিনি ঠিকমতো দেওয়া আছে?

কাছাকাছি আর যা আছে

সূত্র
মুনাফার হার: অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন, সেপ্টেম্বর ২০২১ (দ্য ডেইলি স্টার), জানুয়ারি ২০২৫ (দৈনিক ইত্তেফাক), জুন ২০২৫ (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো); জুলাই ২০২৬-এ অপরিবর্তিত (বাংলা ট্রিবিউন)।
২০২০ সালের হার কমানো ও ফেরানো: দ্য ডেইলি স্টার, ফেব্রুয়ারি ২০২০।
জমার সীমা: অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনা, মে ২০২০ (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড); দ্য ডেইলি স্টার, আগস্ট ২০২১।
উৎসে কর: আয়কর আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট অর্থ আইন।
এই পাতার সংখ্যাগুলো একটা সময়ের পরিসর, নির্দিষ্ট দিনের হার নয়। আজকের হার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন। এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়।