BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

শেয়ার (স্টক)

শেয়ার কিনলে আপনি একটা কোম্পানির ছোট একটা অংশের মালিক হন। লাভ আসে লভ্যাংশ আর দাম বাড়া থেকে, কিন্তু দাম কমেও যেতে পারে, কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ভিডিও আসছে
শেয়ার: কোম্পানির ছোট একটা অংশের মালিক হওয়া

শেয়ার কী

একটা কোম্পানির মালিকানাকে অনেকগুলো ছোট ছোট সমান ভাগে ভাগ করা হয়; প্রতিটা ভাগই একটা শেয়ার। শেয়ার কিনলে আপনি কোম্পানিকে ধার দেন না, বরং তার একটা ছোট অংশের মালিক হন। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে আপনার কয়টা, সেটাই আপনার মালিকানার ভাগ।

মালিক হিসেবে কোম্পানির ভালো-মন্দ দুটোরই ভাগীদার আপনি। কোম্পানি ভালো করলে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে, লাভের ভাগও পেতে পারেন; খারাপ করলে দাম কমে যেতে পারে। ধারের মতো নির্দিষ্ট অঙ্ক ফেরতের কোনো প্রতিশ্রুতি এখানে নেই।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক একটা বিস্কুট কোম্পানির মোট ১ কোটি শেয়ার আছে, আর রাকিব তার মধ্যে ১০০টা কিনল, প্রতিটা ৫০ টাকায়, মোট ৫,০০০ টাকা। এখন সে কোম্পানির খুব ছোট একটা অংশের মালিক। এক বছর পর দাম ৬০ টাকা হলে তার শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৬,০০০ টাকা; দাম ৪০ টাকায় নামলে ৪,০০০ টাকা।

কীভাবে কাজ করে

যে কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, তার শেয়ার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা হয়। আপনি সরাসরি এক্সচেঞ্জে যান না; একটা ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে অর্ডার দেন, আর শেয়ার জমা থাকে আপনার নামে খোলা বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবে, ইলেকট্রনিকভাবে।

শেয়ার থেকে টাকা আসে দুইভাবে। এক, লভ্যাংশ: কোম্পানি লাভ করলে তার একটা অংশ শেয়ারহোল্ডারদের দিতে পারে, নগদে বা বোনাস শেয়ার হিসেবে। দুই, মূলধনি মুনাফা: যে দামে কিনেছিলেন, তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে পার্থক্যটা আপনার লাভ। দাম কমলে উল্টোটা, লোকসান।

দাম ঠিক হয় চাহিদা আর জোগানে: কোম্পানির আয়, সুদের হার, অর্থনীতি, রাজনীতি, গুজব, সবকিছুর প্রভাব পড়ে। কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে বাধ্য নয়, আর শেয়ারের দাম কত হবে, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।

উদাহরণ (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)

কেউ ৳ ৫০ দামে ১,০০০টা শেয়ার কিনলেন, খরচ ৳ ৫০,০০০। বছরে শেয়ারপ্রতি ৳ ২ নগদ লভ্যাংশ পেলে আসে ৳ ২,০০০ (কর কাটার আগে)। বছর শেষে দাম ৳ ৫৫ হলে কাগজে লাভ ৳ ৫,০০০; দাম ৳ ৪০ হলে কাগজে লোকসান ৳ ১০,০০০। ব্রোকারের কমিশন বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে। সব অঙ্ক উদাহরণ মাত্র।

যা জানা দরকার

বিও হিসাব
শেয়ার রাখার ইলেকট্রনিক হিসাব; সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল)-এ রেকর্ড থাকে। বছরে একটা রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হয়।
ব্রোকার ও কমিশন
প্রতিটা কেনা ও বেচায় ব্রোকার লেনদেনের মূল্যের ওপর একটা ছোট শতাংশ কমিশন নেয়; হার ব্রোকারভেদে আলাদা।
ক্যাটাগরি (A, B, N, Z)
লভ্যাংশ দেওয়া, বার্ষিক সাধারণ সভা করা ইত্যাদির ভিত্তিতে এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোকে ভাগ করে। Z ক্যাটাগরি সাধারণত নিয়মিত লভ্যাংশ বা সভা না হওয়ার সংকেত।
সূচক (ডিএসইএক্স)
ডিএসইর প্রধান সূচক; বাজার সামগ্রিকভাবে উঠছে না নামছে, তা বোঝায়। জানুয়ারি ২০১৩ থেকে চালু।
মার্জিন ঋণ
ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে শেয়ার কেনা। দাম পড়লে লোকসান বহুগুণ হয়, আর জোর করে বিক্রি (ফোর্সড সেল) হতে পারে।

বাজার কতটা ওঠানামা করে

ডিএসইএক্স জানুয়ারি ২০১৩-তে চালু হয় ৪,০০০ পয়েন্টের সামান্য ওপরে। করোনার ধাক্কায় ১৮ মার্চ ২০২০-এ এটি নেমে আসে প্রায় ৩,৬০৩-এ, আবার সেপ্টেম্বর ২০২১-এ উঠে যায় ৭,৩০০ ছাড়িয়ে, চালু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে এটি ছিল প্রায় ৪,৮৬৫-এ, আর ২০২৬-এর প্রথম ছয় মাসে ১৮%-এর বেশি বেড়ে প্রায় ৫,৭৬৩-এ।

অর্থাৎ ১৩ বছরে সূচক যেখানে শুরু করেছিল, তার কাছাকাছিই ঘুরেছে, মাঝে বড় ওঠানামা। এই হিসাবে লভ্যাংশ ধরা নেই; লভ্যাংশ যোগ করলে মোট লাভ কিছুটা বেশি। আলাদা কোম্পানির শেয়ার সূচকের চেয়ে অনেক বেশি ওঠানামা করতে পারে।

অস্বাভাবিক পতনের সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কখনো কখনো শেয়ারের দামের নিচের সীমা (ফ্লোর প্রাইস) বেঁধে দিয়েছে, যেমন ২০২০-এ এবং ২০২২–২০২৪ সময়ে। তখন দাম কাগজে টিকে থাকলেও অনেক শেয়ার বিক্রিই করা যায়নি।

কত লাভ আশা করা যায়

শেয়ারে কোনো নির্দিষ্ট হার নেই। সূচক ভালো বছরে অনেক বাড়ে, খারাপ বছরে অনেক কমে: যেমন ২০২০-এ প্রায় ২১% আর ২০২১-এ প্রায় ২৫% বেড়েছিল, আবার ২০১৮–১৯ সালে বছরে ১৪–১৭%, ২০২৪-এ প্রায় ১৬% আর ২০২৫-এ প্রায় ৭% কমেছে।

লম্বা সময় ধরে রাখলে সাধারণত ওঠানামার প্রভাব কমে, কিন্তু বাংলাদেশে ২০১৩–২০২৫ সময়ে সূচক মোটের ওপর খুব একটা বাড়েনি। তাই "দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার সবসময় লাভ দেয়" কথাটা নিশ্চয়তা নয়। মোট ফল অনেকটাই নির্ভর করে কোন শেয়ার, কোন দামে আর কখন কেনা-বেচা হলো তার ওপর।

সূত্র: ডিএসইএক্স সূচকের তথ্য, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও জাগো নিউজের বাজার প্রতিবেদন, ২০২০–২০২৬

যে কারণে মানুষ বেছে নেয়

  • কোম্পানির আয় বাড়লে তার ভাগ পাওয়ার সুযোগ, যা নির্দিষ্ট সুদের পণ্যে নেই।
  • অল্প টাকা দিয়েও শুরু করা যায়।
  • বাজার চালু থাকলে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রি করে টাকা পাওয়া যায়।
  • কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ্য, তাই নিজে যাচাই করার সুযোগ আছে।

যা ভেবে দেখার

  • দাম অনেক কমে যেতে পারে; মূল টাকাও ফেরত না আসার ঝুঁকি আছে।
  • লভ্যাংশ নিশ্চিত নয়।
  • গুজব আর কারসাজির প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে ছোট কোম্পানিতে।
  • ফ্লোর প্রাইসের মতো সময়ে বিক্রি করা কঠিন হতে পারে।
  • ঠিকমতো বুঝতে সময় ও নিয়মিত মনোযোগ লাগে।

কর

লভ্যাংশের ওপর কর: আগে কোম্পানি উৎসে ১০–১৫% কেটে রাখত এবং আয়ের স্তর অনুযায়ী পরে বাড়তি কর লাগতে পারত। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের অর্থ আইনে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর লভ্যাংশে সমান ১৫% কর ধরা হয়েছে, যেটাই চূড়ান্ত কর। প্রতি বছরের অর্থ আইনে এটা বদলাতে পারে।

তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রির লাভ (মূলধনি মুনাফা): আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তির ক্ষেত্রে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করমুক্ত ছিল; এর বেশি অংশে ২০২৪–২৫ থেকে ১৫% হারে কর। উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ারের নিয়ম আলাদা। এগুলোও বদলাতে পারে।

তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগ কর রেয়াত পাওয়া যায়; সীমা আর হার অর্থ আইনে ঠিক হয়। শেয়ার কেনাবেচার সময় এক্সচেঞ্জ লেনদেনমূল্যের ওপর ছোট একটা উৎসে কর কাটে, যা ব্রোকারের বিলেই থাকে।

করের নিয়ম প্রতি বছরের অর্থ আইনে বদলাতে পারে। বড় সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ নিয়ম বা একজন কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

কীভাবে শুরু করবেন

  1. একটা ব্রোকারেজ হাউস বেছে নিন; সেটি বিএসইসির নিবন্ধিত কি না দেখে নিন।
  2. বিও হিসাব খুলুন: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নিজের নামে ব্যাংক হিসাব, নমিনির তথ্য লাগে।
  3. ব্রোকারের হিসাবে টাকা জমা দিন; কমিশনের হার আর ফি লিখিতভাবে জেনে নিন।
  4. কেনার আগে কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন, আয় আর লভ্যাংশের ইতিহাস পড়ুন।
  5. নিয়মিত ব্রোকার ও সিডিবিএলের স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখুন।

শুরুর আগে যাচাই করুন

  • এই টাকা কি কয়েক বছর না ছুঁয়ে রাখতে পারব, দাম কমলেও?
  • টাকাটা অর্ধেক হয়ে গেলেও কি আমার জরুরি প্রয়োজন মেটানো যাবে?
  • কোম্পানিটা কী করে, কীভাবে আয় করে, বুঝি?
  • শুধু গুজব বা কারো "টিপস" শুনে কিনছি না তো?
  • ধার করা টাকা বা মার্জিন ঋণে কিনছি কি?
  • সব টাকা এক-দুটো শেয়ারে রাখছি কি?

কাছাকাছি আর যা আছে

সূত্র
ডিএসইএক্স ৩,৬০৩ (১৮ মার্চ ২০২০) ও ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিক: দ্য ডেইলি স্টার, ২ এপ্রিল ২০২০।
২০২০ সালে ২১.৩% বৃদ্ধি, আগের দুই বছরে ১৭.৩% ও ১৩.৮% পতন: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০।
২০২১ সালে প্রায় ২৫% বৃদ্ধি: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১; ৭,৩০০ ছাড়ানো সর্বোচ্চ: জাগো নিউজ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১।
২০২৪-এ প্রায় ১৬% পতন: দ্য ডেইলি স্টার, ১ জুলাই ২০২৫; ২০২৫-এ ৬.৭৬% পতন ও ৪,৮৬৫-এ সমাপ্তি: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ১ মার্চ ২০২৬।
২০২৬-এর প্রথমার্ধে ১৮%-এর বেশি বৃদ্ধি: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ১ জুলাই ২০২৬।
লভ্যাংশে সমান ১৫% চূড়ান্ত কর: অর্থ আইন ২০২৬ (২০২৬–২৭), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৯ জুন ২০২৬।
মূলধনি মুনাফায় ৫০ লাখ টাকার সীমা ও ১৫% হার: আয়কর আইন ২০২৩, এনবিআরের নভেম্বর ২০২৪ সংশোধন (ঢাকা ট্রিবিউন, ৫ নভেম্বর ২০২৪); পিডব্লিউসি ট্যাক্স সামারিজ, জুলাই ২০২৬ পর্যালোচিত।
এই পাতার সংখ্যাগুলো একটা সময়ের পরিসর, নির্দিষ্ট দিনের হার নয়। আজকের হার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন। এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়।