আনএমপ্লয়মেন্ট কী
আনএমপ্লয়মেন্ট মানে যাঁরা কাজ করতে সক্ষম, কাজ করতে প্রস্তুত এবং সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। শুধু "চাকরি নেই" হলেই কেউ বেকার নন। যে ছাত্র পড়াশোনা করছেন, যে গৃহিণী এখন কাজ খুঁজছেন না, বা যে অবসরপ্রাপ্ত মানুষ কাজ চান না, তাঁরা পরিসংখ্যানে বেকার হিসেবে গোনা হন না।
বেকারত্বের হার হলো লেবার ফোর্সের মধ্যে বেকারের শতাংশ। লেবার ফোর্স বা শ্রমশক্তি মানে যাঁরা কাজ করছেন আর যাঁরা কাজ খুঁজছেন, এই দুই দল মিলে।
ধরা যাক এক পরিবারে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাবা দোকান চালান, মা গৃহিণী ও কাজ খুঁজছেন না, বড় ছেলে গ্র্যাজুয়েশন শেষে তিন মাস ধরে চাকরি খুঁজছেন, ছোট মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। পরিসংখ্যানের চোখে লেবার ফোর্সে আছেন দুজন (বাবা আর বড় ছেলে), তাঁদের মধ্যে একজন বেকার। এই পরিবারের "বেকারত্বের হার" ৫০%, যদিও চারজনের মাত্র একজন বেকার। উদাহরণটি কাল্পনিক।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- অর্থনীতির অবস্থা বুঝতে: বেকারত্ব বাড়লে মানুষের আয় আর খরচ কমে, ফলে অনেক ব্যবসার বিক্রি ও লাভও চাপে পড়ে।
- নিজের ঝুঁকি বুঝতে: চাকরি হারানো ব্যক্তিগত অর্থের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটা। তাই ইমার্জেন্সি ফান্ড কত হবে, তা অনেকটা নির্ভর করে আপনার কাজ কতটা অনিশ্চিত তার ওপর।
- লোনের ঝুঁকি বুঝতে: বেকারত্ব বাড়লে মানুষ কিস্তি দিতে হিমশিম খায়, যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারে।
- নীতি বুঝতে: সুদের হার আর সরকারি বাজেটের সিদ্ধান্তে প্রবৃদ্ধি, ইনফ্লেশনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বিবেচনায় আসে।
বাংলাদেশে কীভাবে মাপা হয়
বাংলাদেশে বেকারত্ব মাপে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), শ্রমশক্তি জরিপ বা লেবার ফোর্স সার্ভে (এলএফএস) দিয়ে। সারা দেশ থেকে বাছাই করা পরিবারে গিয়ে প্রশ্ন করা হয়, আর সেখান থেকে পুরো দেশের হিসাব করা হয়। বিবিএস ত্রৈমাসিক আর বার্ষিক দুই ধরনের ফলই প্রকাশ করে।
সংজ্ঞাটা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মান মেনে: গত সাত দিনে অন্তত এক ঘণ্টাও আয়ের কাজ করেননি, কাজ করতে প্রস্তুত, আর গত এক মাস ধরে কাজ খুঁজেছেন। অর্থাৎ সপ্তাহে এক ঘণ্টা আয়ের কাজ করলেই কেউ "কর্মরত" হিসেবে গোনা হন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বার্ষিক বেকারত্বের হার ২০২২-এ ছিল ৩.৫৩%, ২০২৩-এ ৩.৩৫% আর ২০২৪-এ ৩.৬৬%। ২০২৪-এ বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ; শহরে হার (৪.৪০%) গ্রামের (৩.৪০%) চেয়ে বেশি।
তরুণদের মধ্যে হার অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের (আইএলওর মডেলভিত্তিক) হিসাবে, ১৫–২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোটামুটি ৮% থেকে ১১%-এর মধ্যে ছিল, অর্থাৎ জাতীয় হারের দুই থেকে তিন গুণ। সংখ্যাগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়; সর্বশেষ হিসাব বিবিএস প্রকাশ করে।
কম হার মানেই সব ঠিক নয়
- অনানুষ্ঠানিক কাজ: ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপে কর্মরত মানুষের প্রায় ৮৪.৯% ছিলেন অনানুষ্ঠানিক কাজে, যেখানে সাধারণত লিখিত চুক্তি, নিয়মিত বেতন বা অবসর সুবিধা থাকে না।
- আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট: যিনি পূর্ণ সময় কাজ চান কিন্তু সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা কাজ পান, বা যাঁর কাজ তাঁর যোগ্যতার চেয়ে অনেক নিচে, তিনি বেকার হিসেবে গোনা হন না।
- কাজ খোঁজা ছেড়ে দেওয়া: অনেক দিন চেষ্টা করে হতাশ হয়ে যাঁরা খোঁজা বন্ধ করেছেন, তাঁরা লেবার ফোর্সের বাইরে চলে যান, ফলে হার উল্টো কমে দেখায়।
হাতে-কলমে হিসাব
- ধরা যাক একটা এলাকায় ১,০০০ জন কাজ করার বয়সী মানুষ। এর মধ্যে ৪০০ জন ছাত্র, গৃহিণী বা অবসরপ্রাপ্ত, যাঁরা কাজ খুঁজছেন না।
- বাকি ৬০০ জন লেবার ফোর্সে। তাঁদের মধ্যে ৫৭০ জন কাজ করছেন, ৩০ জন কাজ খুঁজছেন কিন্তু পাচ্ছেন না।
- বেকারত্বের হার = ৩০ ÷ ৬০০ = ৫%। (১,০০০ দিয়ে ভাগ করলে ভুলভাবে ৩% আসত।)
ফল: এখন ধরা যাক হতাশ হয়ে ১০ জন খোঁজা ছেড়ে দিলেন। লেবার ফোর্স ৫৯০, বেকার ২০, হার নেমে প্রায় ৩.৪%, অথচ একজনও নতুন চাকরি পাননি। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- "বেকারত্বের হার কম, তাই চাকরির বাজার ভালো" ধরে নেওয়া, অনানুষ্ঠানিক কাজ আর আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট না দেখে।
- বেকারত্বের হারকে মোট জনসংখ্যার অংশ ভাবা। এটা শুধু লেবার ফোর্সের অংশ।
- নিজের চাকরিকে চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে ইমার্জেন্সি ফান্ড না রাখা।
- জাতীয় গড় দেখে নিজের খাত বা পেশার ঝুঁকি বিচার করা। বয়স, শিক্ষা, এলাকা আর খাতভেদে ছবিটা অনেক আলাদা।
বেকারত্বের হার দেখলে সঙ্গে দেখুন কে গোনায় আছে আর কে নেই: তরুণদের হার, অনানুষ্ঠানিক কাজ আর কাজ খোঁজা ছেড়ে দেওয়া মানুষ।