BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

কমন বনাম প্রেফারেন্স শেয়ার

দুটোই কোম্পানির শেয়ার, কিন্তু অধিকার আলাদা। কমন শেয়ারহোল্ডার ভোট দেন আর লাভের পুরো সম্ভাবনার ভাগ পান; প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডার আগে আর নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান, কিন্তু সাধারণত ভোট পান না।

ভিডিও আসছে
কমন বনাম প্রেফারেন্স শেয়ার: কে আগে পায়, কে বেশি পায়?

কমন আর প্রেফারেন্স শেয়ার কী

কমন শেয়ার (অর্ডিনারি বা সাধারণ শেয়ার) হলো কোম্পানির আসল মালিকানা। শেয়ারবাজারে আমরা সাধারণত যে শেয়ার কিনি, সেটা কমন শেয়ার। এর মালিকেরা বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ভোট দিতে পারেন, পরিচালক নির্বাচনে মত দিতে পারেন, আর কোম্পানি ভালো করলে লভ্যাংশ ও দাম বাড়ার পুরো সুবিধা পান। কিন্তু টাকা পাওয়ার লাইনে তাঁরা সবার শেষে।

প্রেফারেন্স শেয়ার (অগ্রাধিকার শেয়ার) মালিকানা আর ধারের মাঝামাঝি একটা জিনিস। সাধারণত এতে একটা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ থাকে, যা কমন শেয়ারহোল্ডারদের আগে দিতে হয়। কোম্পানি বন্ধ হলে পাওনাদারদের পরে, কিন্তু কমন শেয়ারহোল্ডারদের আগে টাকা পান। বিনিময়ে সাধারণত ভোটের অধিকার থাকে না, আর কোম্পানি যত লাভই করুক, লভ্যাংশ ওই নির্দিষ্ট হারের বেশি বাড়ে না।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক তিন বন্ধু মিলে একটা রেস্টুরেন্ট খুলল। রুমা আর জাহিদ মালিক: সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেন, লাভ বেশি হলে তাঁদের ভাগও বেশি, লোকসান হলে তাঁরাই আগে ক্ষতিগ্রস্ত। তৃতীয় বন্ধু তানভীর টাকা দিল এই শর্তে যে প্রতি বছর লাভ থেকে আগে তাঁকে নির্দিষ্ট ৮% দিতে হবে, কিন্তু তিনি মেন্যু বা দাম ঠিক করায় নাক গলাবেন না। রুমা-জাহিদ যেন কমন শেয়ারহোল্ডার, তানভীর যেন প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডার। চরিত্র আর সংখ্যাগুলো কাল্পনিক।

একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি

  • আপনি আসলে কী কিনছেন বুঝতে: শেয়ারবাজারে সাধারণ ইনভেস্টর যা কেনেন, তা প্রায় সবসময় কমন শেয়ার, যার লভ্যাংশ বা দামের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
  • খারাপ সময়ে কে আগে টাকা পায় জানতে: কোম্পানি বিপদে পড়লে প্রথমে পাওনাদার, তারপর প্রেফারেন্স, সবশেষে কমন শেয়ারহোল্ডার। প্রায়ই শেষ ধাপে কিছুই থাকে না।
  • রিস্ক আর রিটার্নের বিনিময় বুঝতে: বেশি নিরাপত্তা চাইলে সীমিত লাভ, সীমাহীন লাভের সম্ভাবনা চাইলে বেশি রিস্ক। দুটো একসঙ্গে পাওয়া যায় না।
  • কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পড়তে: প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশ আগে দিতে হয়, তাই কমন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আসলে কত মুনাফা থাকে, সেটা এর ওপর নির্ভর করে।

পাশাপাশি তুলনা

  • লভ্যাংশ: কমন শেয়ারে কোনো নির্দিষ্ট হার নেই, পর্ষদ যা প্রস্তাব করে আর এজিএম যা অনুমোদন করে। প্রেফারেন্স শেয়ারে সাধারণত নির্দিষ্ট হার থাকে, আর তা কমন শেয়ারের আগে দিতে হয়।
  • ভোট: কমন শেয়ারে সাধারণত শেয়ারপ্রতি একটা ভোট। প্রেফারেন্স শেয়ারে সাধারণত ভোট নেই, তবে অনেক ক্ষেত্রে লভ্যাংশ বকেয়া পড়লে ভোটের অধিকার আসে।
  • লাভের সম্ভাবনা: কোম্পানি বড় হলে কমন শেয়ারের দাম আর লভ্যাংশ অনেক বাড়তে পারে। প্রেফারেন্স শেয়ারের আয় সাধারণত নির্দিষ্ট হারেই আটকে থাকে।
  • কোম্পানি বন্ধ হলে: পাওনাদারদের পরে প্রেফারেন্স শেয়ারহোল্ডার, তারপর কমন শেয়ারহোল্ডার যা বাকি থাকে তা পান।
  • মেয়াদ: কমন শেয়ারের কোনো মেয়াদ নেই। অনেক প্রেফারেন্স শেয়ার "রিডিমেবল", মানে নির্দিষ্ট সময় পরে কোম্পানি টাকা ফেরত দিয়ে শেয়ারটা তুলে নেয়।

প্রেফারেন্স শেয়ারের ধরন

  • কিউমুলেটিভ: কোনো বছর লভ্যাংশ না দিলে তা জমে থাকে, আর কমন শেয়ারহোল্ডারদের কিছু দেওয়ার আগে বকেয়াসহ শোধ করতে হয়।
  • নন-কিউমুলেটিভ: কোনো বছর লভ্যাংশ না দিলে সেটা আর পাওনা থাকে না।
  • কনভার্টিবল: নির্দিষ্ট সময় পরে কমন শেয়ারে বদলানো যায়, তাই কোম্পানির উন্নতির কিছুটা ভাগ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
  • রিডিমেবল: নির্দিষ্ট তারিখে বা কোম্পানির ইচ্ছায় টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাংলাদেশে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী এই ফেরতের টাকা আসতে পারে কেবল লভ্যাংশযোগ্য মুনাফা, এই উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার ইস্যু বা সম্পদ বিক্রি থেকে।

বাংলাদেশে

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ ইনভেস্টর যে শেয়ার কেনাবেচা করেন, তা কমন শেয়ার। কিছু তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে প্রেফারেন্স শেয়ার ছেড়েছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টে, মানে বাছাই করা কিছু ইনভেস্টরের কাছে; এমন একটা উদাহরণে শেয়ারগুলো ছিল রিডিমেবল, কিউমুলেটিভ আর কয়েক বছরের মেয়াদি। কোম্পানির সংঘবিধিতে অনুমতি না থাকলে প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়া যায় না।

কোম্পানির দিক থেকে প্রেফারেন্স শেয়ার ধারের মতো সুদের চাপ ছাড়াই আর মালিকদের ভোটের ভাগ না কমিয়ে টাকা তোলার একটা উপায়। ইনভেস্টরের দিক থেকে এটা বন্ডের কাছাকাছি, কিন্তু বন্ডের সুদ না দিলে কোম্পানি খেলাপি হয়, আর প্রেফারেন্স লভ্যাংশ না দিলে সাধারণত তা হয় না। তাই নির্দিষ্ট হার থাকলেও এটা বন্ডের চেয়ে কম সুরক্ষিত।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • "প্রেফারেন্স" নাম শুনে ধরে নেওয়া এটা নিরাপদ বা নিশ্চিত আয়। কোম্পানির মুনাফা না থাকলে লভ্যাংশ বন্ধ থাকতে পারে।
  • প্রেফারেন্স শেয়ারকে বন্ডের সমান ভাবা। কোম্পানি বন্ধ হলে পাওনাদাররা আগে টাকা পান।
  • কমন শেয়ারে "লভ্যাংশ তো প্রতি বছরই আসে" ভাবা। কমন শেয়ারে লভ্যাংশ দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
  • কিউমুলেটিভ, রিডিমেবল, কনভার্টিবল শর্তগুলো না পড়েই বিনিয়োগ করা। একই নামের শেয়ারের শর্ত অনেক আলাদা হতে পারে।
মনে রাখুন

কমন শেয়ার মানে ভোট আর সীমাহীন লাভ-লোকসানের ভাগ, কিন্তু টাকা পাওয়ার লাইনে সবার শেষে; প্রেফারেন্স শেয়ার মানে আগে আর নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ, কিন্তু সীমিত লাভ আর সাধারণত ভোট নেই।

এর সঙ্গে আরও পড়ুন

সূত্র
প্রেফারেন্স শেয়ারের ধরন, ভোটের সীমাবদ্ধতা, সংঘবিধির শর্ত ও কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী রিডেম্পশনের উৎস: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, "Understanding preference shares in practice", ৫ ডিসেম্বর ২০২০, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
প্রেফারেন্স শেয়ারের সংজ্ঞা (আগে দাবি, সাধারণত নির্দিষ্ট লভ্যাংশ, সাধারণত ভোট নেই): Nasdaq Glossary, "Preferred stock", দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিডিমেবল, নন-কনভার্টিবল, কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার প্রাইভেট প্লেসমেন্টে, বিএসইসির অনুমোদনে (একটি উদাহরণ): দ্য ডেইলি স্টার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬
এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়। সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা সময়ের; আজকের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।