অ্যাসেট অ্যালোকেশন কী
অ্যাসেট অ্যালোকেশন মানে আপনার মোট ইনভেস্টমেন্টকে বিভিন্ন অ্যাসেট শ্রেণিতে ভাগ করা। প্রতিটা শ্রেণির চরিত্র আলাদা: কোনোটা দীর্ঘ মেয়াদে বেশি বাড়তে পারে কিন্তু খুব ওঠানামা করে, কোনোটা স্থির কিন্তু ধীরে বাড়ে, কোনোটা দরকারের সময় সহজে টাকা দেয়।
ডাইভারসিফিকেশন বলে "ভাগ করে রাখুন"; অ্যাসেট অ্যালোকেশন বলে "কোন ভাগে কতটা"। সঠিক অনুপাত সবার জন্য এক নয়। এটা নির্ভর করে টাকাটা কীসের জন্য, কবে লাগবে, আর আপনি কতটা রিস্ক নিতে পারেন তার ওপর।
ধরা যাক শারমিনের দুটো লক্ষ্য: দুই বছর পরে ছোট বোনের বিয়ের খরচ, আর ২০ বছর পরে নিজের অবসর। একই মানুষ, কিন্তু দুই লক্ষ্যের টাকার চরিত্র আলাদা। বিয়ের টাকা দুই বছরের মধ্যে বড় পতনে পড়লে সামলানোর সময় নেই, তাই সেখানে স্থিরতা জরুরি। অবসরের টাকার হাতে সময় অনেক, তাই সেখানে বৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার জায়গা বেশি। প্রতিটা লক্ষ্যের জন্য আলাদা ভাগ ভাবা যায়। চরিত্রটি কাল্পনিক।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- পোর্টফোলিওর চরিত্র ঠিক করে: খারাপ বছরে কতটা পড়বে আর ভালো বছরে কতটা বাড়বে, তার বড় অংশ নির্ভর করে অ্যাসেটের ভাগের ওপর।
- লক্ষ্যের সঙ্গে মেলায়: কাছের লক্ষ্যে স্থিরতা আর দূরের লক্ষ্যে বৃদ্ধির সুযোগ, দুটোর ভারসাম্য রাখে।
- সিদ্ধান্তকে সহজ করে: কোন শেয়ার বা কোন স্কিম, সেই প্রশ্নের আগে "কোন ধরনে কতটা" ঠিক থাকলে প্রতিদিনের খবরে কম দোলেন।
- আবেগ সামলায়: আগে থেকে ঠিক করা ভাগ থাকলে বাজার চড়লে লোভে বা পড়লে ভয়ে সব টাকা সরানোর সম্ভাবনা কমে।
প্রধান অ্যাসেট শ্রেণি আর তাদের ভূমিকা
- নগদ ও স্বল্পমেয়াদি আমানত (সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ছোট মেয়াদের এফডিআর): সহজে তোলা যায়, দাম পড়ে না, কিন্তু রিটার্ন প্রায়ই ইনফ্লেশনের কাছাকাছি বা নিচে। ভূমিকা: জরুরি দরকার আর কাছের খরচ।
- ফিক্সড ইনকাম (সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বন্ড, লম্বা মেয়াদের আমানত): নির্দিষ্ট হারে আয়, শেয়ারের চেয়ে অনেক স্থির। ভূমিকা: নিয়মিত আয় আর পোর্টফোলিওর স্থিরতা।
- ইক্যুইটি (শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড): দাম অনেক ওঠানামা করে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি। ভূমিকা: দূরের লক্ষ্যের জন্য বৃদ্ধি।
- সোনা ও জমি-ফ্ল্যাট: ইনফ্লেশন আর টাকার মান কমার বিরুদ্ধে অনেকে রাখেন। তবে সোনার দামও ওঠানামা করে, আর জমি-ফ্ল্যাট বড় অঙ্কের, সহজে বিক্রি করা যায় না।
কোন বিষয়গুলো ভাগ ঠিক করে
তিনটা প্রশ্ন সবচেয়ে বড়: টাকাটা কবে লাগবে (টাইম হরাইজন), আপনি কতটা রিস্ক নিতে পারেন ও চান (রিস্ক টলারেন্স), আর মাঝপথে টাকা তোলার দরকার পড়বে কি না (লিকুইডিটি)। মার্কিন রেগুলেটর এসইসি-র ইনভেস্টর গাইডও অ্যাসেট অ্যালোকেশনের মূল ভিত্তি হিসেবে টাইম হরাইজন আর রিস্ক টলারেন্সের কথা বলে।
লক্ষ্যের কাছাকাছি গেলে সাধারণত ওঠানামা করা অ্যাসেটের ভাগ কমিয়ে স্থির অ্যাসেটের ভাগ বাড়ানো হয়, যাতে শেষ মুহূর্তের পতনে লক্ষ্য ভেস্তে না যায়। "১০০ থেকে বয়স বাদ দিলে যা থাকে, ততটা শতাংশ শেয়ারে" ধরনের সহজ নিয়মও শোনা যায়। এগুলো ভাবনা শুরু করার একটা উপায় মাত্র, কারণ একই বয়সের দুজনের আয়, দায়িত্ব আর লক্ষ্য একদম আলাদা হতে পারে।
হাতে-কলমে হিসাব
- ধরা যাক দুজনের প্রত্যেকের ১,০০,০০০ টাকা। ক রাখলেন ৮০% শেয়ারে আর ২০% ফিক্সড ইনকামে। খ রাখলেন ৩০% শেয়ারে আর ৭০% ফিক্সড ইনকামে। ফিক্সড ইনকামে ধরা যাক বছরে ৯%।
- খারাপ বছর, শেয়ার ২০% পড়ল। ক: ৮০,০০০ টাকায় −১৬,০০০, ২০,০০০ টাকায় +১,৮০০, মোট −১৪.২%। খ: ৩০,০০০ টাকায় −৬,০০০, ৭০,০০০ টাকায় +৬,৩০০, মোট +০.৩%।
- ভালো বছর, শেয়ার ২৫% বাড়ল। ক: +২০,০০০ আর +১,৮০০, মোট +২১.৮%। খ: +৭,৫০০ আর +৬,৩০০, মোট +১৩.৮%।
ফল: কোন শেয়ার কিনলেন তা না জেনেও শুধু ভাগ দেখেই বোঝা যায় কার ওঠানামা বেশি হবে। কোনটা "ভালো" নয়; প্রশ্ন হলো কোন ভাগ আপনার লক্ষ্য আর সহ্যের সঙ্গে মেলে। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
সংখ্যাগুলো টেবিলে দেখুন
| ক: ৮০% শেয়ার | খ: ৩০% শেয়ার | |
|---|---|---|
| খারাপ বছর | -১৪.২% | ০.৩% |
| ভালো বছর | ২১.৮% | ১৩.৮% |
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- সব টাকা এক ধরনের অ্যাসেটে রাখা, শুধু জমি, শুধু সঞ্চয়পত্র বা শুধু শেয়ার, আর সেটাকেই "পরিকল্পনা" ভাবা।
- সব লক্ষ্যের টাকা এক পাত্রে রেখে একটাই ভাগ করা, যদিও কোনোটা দুই বছর পরে আর কোনোটা বিশ বছর পরে লাগবে।
- গত বছর যেটা সবচেয়ে ভালো করেছে, তার দিকে পুরো ভাগ ঘুরিয়ে দেওয়া।
- একবার ভাগ ঠিক করে ভুলে যাওয়া। দাম বদলালে ভাগ নিজে থেকেই সরে যায়, আর জীবনের পরিস্থিতিও বদলায়।
কোন শেয়ার বা কোন স্কিম, তার আগে ঠিক করুন কোন ধরনের অ্যাসেটে কতটা, আর সেটা মেলান টাকা কবে লাগবে আর কতটা রিস্ক নিতে পারেন তার সঙ্গে।