ভোলাটিলিটি কী
ভোলাটিলিটি মানে দামের অস্থিরতা: দাম কত বড় লাফ দেয়, আর কত ঘনঘন। যে শেয়ারের দাম দিনে সাধারণত আধা শতাংশের মতো নড়ে, তার ভোলাটিলিটি কম; যেটা প্রায়ই দিনে ৪–৫% ওঠে বা নামে, তার ভোলাটিলিটি বেশি।
সাধারণভাবে শেয়ার বন্ড বা আমানতের চেয়ে বেশি ভোলাটাইল, আর একটা কোম্পানির শেয়ার পুরো বাজারের সূচকের চেয়ে বেশি। মার্কিন রেগুলেটর এসইসি-র ইনভেস্টর গাইড বলছে, আমেরিকায় বড় কোম্পানির শেয়ার সামগ্রিকভাবে ইতিহাসে গড়ে প্রায় প্রতি তিন বছরে এক বছর লোকসান দিয়েছে।
ধরা যাক নাদিয়া আর তানভীর দুজনেই ১,০০,০০০ টাকার শেয়ার কিনলেন। নাদিয়ার শেয়ার দিনে সাধারণত ০.৫% নড়ে, মানে দিনে ৫০০ টাকার মতো ওঠানামা। তানভীরের শেয়ার প্রায়ই দিনে ৪% নড়ে, মানে এক দিনেই ৪,০০০ টাকা বাড়া বা কমা। বছর শেষে দুজনের লাভ হয়তো কাছাকাছি, কিন্তু তানভীরকে পথে অনেক বেশি ভয় আর উত্তেজনা সামলাতে হবে। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- মনের ওপর চাপ বুঝতে: বড় পতনের সময় ভয়ে সবচেয়ে কম দামে বেচে দেওয়া খুব সাধারণ ভুল। কতটা ওঠানামা আপনি সইতে পারেন, তা আগে জানা থাকলে সুবিধা।
- সময়ের সঙ্গে মেলাতে: যে টাকা অল্প দিনের মধ্যে লাগবে, তার জন্য ভোলাটিলিটি বড় সমস্যা, কারণ খারাপ সময়েই বেচতে বাধ্য হতে পারেন।
- আসল লাভ বুঝতে: একই গড় রিটার্নে বেশি ওঠানামা মানে শেষে কম টাকা। নিচের হিসাবে দেখুন।
- তুলনা ঠিক করতে: শুধু রিটার্ন দেখে দুটো ইনভেস্টমেন্ট তুলনা করা অসম্পূর্ণ; সেই রিটার্ন পেতে কতটা ঝাঁকুনি সইতে হয়েছে, সেটাও দেখার কথা।
কীভাবে মাপা হয়
সবচেয়ে প্রচলিত মাপ হলো স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন: প্রতি বছরের (বা মাসের, দিনের) রিটার্ন গড় থেকে সাধারণত কতটা দূরে থাকে। কোনো শেয়ারের গড় রিটার্ন ১০% আর স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন ৩০% মানে, বেশিরভাগ বছরে রিটার্ন মোটামুটি −২০% থেকে +৪০%-এর মধ্যে পড়ার কথা, আর মাঝেমধ্যে তার বাইরেও। এটা অতীতের ডেটা থেকে হিসাব, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়।
পুরো বাজারের ভয় মাপার জন্যও সূচক আছে। আমেরিকার এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর জন্য ভিক্স (VIX) সূচককে বলা হয় "ভয়ের মাপকাঠি"। কোভিডের ধাক্কায় ১৬ মার্চ ২০২০ এটা রেকর্ড ৮২.৬৯-এ বন্ধ হয়, যা নভেম্বর ২০০৮-এর আগের রেকর্ড ৮০.৭৪ ছাড়িয়ে যায়। সেদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১২% পড়েছিল।
ভোলাটিলিটি আর রিস্ক এক নয়
- ওঠানামা মানেই স্থায়ী ক্ষতি নয়: যে শেয়ার অনেক লাফায় কিন্তু লম্বা সময়ে বাড়ে, আর যেটা শান্তভাবে ধীরে ধীরে কমে, তাদের মধ্যে দ্বিতীয়টা হয়তো বেশি ক্ষতিকর।
- কম ওঠানামা মানেই নিরাপদ নয়: দাম না নড়লেও সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশে ফ্লোর প্রাইসের সময় অনেক শেয়ারের দাম কাগজে স্থির ছিল, কিন্তু সেই দামে বেচা যাচ্ছিল না।
- দৈনিক সীমা ওঠানামা থামায় না, পিছিয়ে দেয়: ডিএসই-তে সার্কিট ব্রেকার এক দিনে দাম কতটা বদলাতে পারে তার সীমা ঠিক করে। খবর বড় হলে দাম কয়েক দিন ধরে সেই সীমা ছুঁয়ে চলতে পারে।
- শান্ত সময় চিরকাল থাকে না: কয়েক বছর কম ওঠানামা দেখে ভবিষ্যতেও তাই হবে ধরে নেওয়া বিপজ্জনক; ২০২০-এর শুরুতে অনেক বাজারে হঠাৎ ঝড় এসেছিল।
হাতে-কলমে হিসাব
- শেয়ার ক: চার বছরে রিটার্ন +৮%, +১২%, +৯%, +১১%। গড় ১০%। ১,০০,০০০ টাকা হয়: ১.০৮ × ১.১২ × ১.০৯ × ১.১১ ≈ ১.৪৬৩, মানে প্রায় ১,৪৬,৩০০ টাকা।
- শেয়ার খ: চার বছরে রিটার্ন +৪০%, −২০%, +৩৫%, −১৫%। গড়ও ১০%। কিন্তু ১,০০,০০০ টাকা হয়: ১.৪০ × ০.৮০ × ১.৩৫ × ০.৮৫ ≈ ১.২৮৫, মানে প্রায় ১,২৮,৫০০ টাকা।
- কারণ: ২০% পড়ার পর আগের জায়গায় ফিরতে ২৫% বাড়তে হয়। বড় পতন মেরামত করতে আরও বড় উত্থান লাগে। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
ফল: দুটোর গড় রিটার্ন একই, তবুও বেশি ওঠানামার শেয়ারে প্রায় ১৮,০০০ টাকা কম। শুধু গড় রিটার্ন দেখলে এই পার্থক্য চোখে পড়ে না।
বছর
সংখ্যাগুলো টেবিলে দেখুন
| শেয়ার ক (কম ওঠানামা) | শেয়ার খ (বেশি ওঠানামা) | |
|---|---|---|
| ০ | ১,০০,০০০ টাকা | ১,০০,০০০ টাকা |
| ১ | ১,০৮,০০০ টাকা | ১,৪০,০০০ টাকা |
| ২ | ১,২০,৯৬০ টাকা | ১,১২,০০০ টাকা |
| ৩ | ১,৩১,৮৪৬ টাকা | ১,৫১,২০০ টাকা |
| ৪ | ১,৪৬,৩৪৯ টাকা | ১,২৮,৫২০ টাকা |
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- শুধু গড় রিটার্ন দেখা, পথে কতটা ওঠানামা হয়েছে তা না দেখা।
- যে শেয়ারের দাম অনেকদিন নড়েনি, তাকে নিরাপদ ভাবা।
- বড় পতনের দিনে ভয়ে বেচে দিয়ে কাগজের ক্ষতিকে স্থায়ী করে ফেলা, পরিকল্পনা ছাড়াই।
- অল্প সময়ের মধ্যে লাগবে এমন টাকা খুব বেশি ওঠানামা করে এমন জায়গায় রাখা।
একই গড় রিটার্নের দুটো ইনভেস্টমেন্টের যাত্রা খুব আলাদা হতে পারে; ভোলাটিলিটি সেই যাত্রার ঝাঁকুনি, আর বড় ঝাঁকুনি শেষ ফলও কমায়।