রিটার্ন কী
রিটার্ন হলো একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনার ইনভেস্টমেন্ট থেকে যা পেলেন, শুরুতে যা দিয়েছিলেন তার শতকরা হিসাবে। এর দুটো অংশ থাকতে পারে: দাম বাড়া বা কমা (যেমন শেয়ার, সোনা, জমির দাম), আর হাতে আসা আয় (সুদ, মুনাফা, ডিভিডেন্ড, ভাড়া)। দুটো মিলিয়ে যা হয়, সেটাই টোটাল রিটার্ন।
রিটার্ন সবসময় একটা সময়ের সঙ্গে বলতে হয়। "৫০% লাভ" এক বছরে হলে এক কথা, দশ বছরে হলে সম্পূর্ণ আরেক কথা। তাই ভিন্ন মেয়াদের ইনভেস্টমেন্ট তুলনা করতে রিটার্নকে বছরে কত, সেই হিসাবে আনতে হয়।
ধরা যাক নাদিয়া একটা শেয়ারে ১০,০০০ টাকা দিলেন। প্রথম বছরে দাম ৫০% বাড়ল, হলো ১৫,০০০ টাকা। পরের বছরে ৫০% কমল, হলো ৭,৫০০ টাকা। "+৫০ আর −৫০, গড়ে শূন্য" মনে হলেও আসলে তিনি ২৫% হারিয়েছেন। কারণ পতনটা হয়েছে বড় অঙ্কের ওপর। তাই রিটার্ন মাপতে হয় শুরুর আর শেষের টাকা দিয়ে, শতাংশগুলোর সাধারণ গড় দিয়ে নয়। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- সঠিক তুলনা করতে: একটার রিটার্ন ৩ বছরে, আরেকটার ১ বছরে বলা হলে, বার্ষিক হিসাবে না আনলে তুলনা ভুল হয়।
- আসল লাভ বুঝতে: কর, ফি আর ইনফ্লেশন বাদ দেওয়ার পর যা থাকে, সেটাই আপনার পকেটে আসে।
- বিজ্ঞাপন যাচাই করতে: "৩ বছরে টাকা দ্বিগুণ" শুনতে বড় লাগে, কিন্তু বছরে তা প্রায় ২৬%। সংখ্যাটা বছরে আনলে বোঝা যায় দাবিটা কতটা অস্বাভাবিক।
- নিজের অগ্রগতি দেখতে: লক্ষ্যে পৌঁছাতে বছরে কত রিটার্ন দরকার, আর আসলে কত হচ্ছে, তা মেলাতে।
মূল হিসাবগুলো
- টোটাল রিটার্ন = (শেষের মূল্য − শুরুর মূল্য + পাওয়া আয়) ÷ শুরুর মূল্য। যেমন, ১০০ টাকার শেয়ার এক বছরে ১০৫ টাকা হলো আর ৫ টাকা ডিভিডেন্ড পেলেন: (১০৫ − ১০০ + ৫) ÷ ১০০ = ১০%।
- বার্ষিক বা অ্যানুয়ালাইজড রিটার্ন: কয়েক বছরের মোট বৃদ্ধিকে "প্রতি বছর গড়ে কত হারে বাড়লে এটা হতো" সেই হারে আনা। একে সিএজিআর (কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট)-ও বলে।
- করের পরের রিটার্ন: উৎসে কাটা কর, ব্রোকারেজ বা ফান্ডের ফি, আর অন্য খরচ বাদ দিয়ে যা হাতে আসে।
- রিয়েল রিটার্ন ≈ করের পরের রিটার্ন − ইনফ্লেশন। এটাই বলে আপনার কেনার ক্ষমতা আসলে কতটা বাড়ল।
তুলনার সময় যা মেলাতে হয়
দুটো ইনভেস্টমেন্টের রিটার্ন পাশাপাশি রাখার আগে দেখুন: দুটোই কি একই সময়ের হিসাব? দুটোই কি করের আগে, নাকি একটা করের পরে? একটা কি নিশ্চিত হার (যেমন এফডিআরের সুদ), আর আরেকটা অতীতের ফল যা ভবিষ্যতে না-ও হতে পারে (যেমন শেয়ার বা ফান্ডের গত বছরের রিটার্ন)?
আরেকটা খেয়াল রাখার বিষয়: বিজ্ঞাপনের "সর্বোচ্চ" বা "প্রায়" রিটার্ন মানে নিশ্চিত রিটার্ন নয়। আর একটা ভালো বছর দিয়ে বিচার না করে কয়েক বছরের ভালো-খারাপ মিলিয়ে বার্ষিক রিটার্ন দেখলে ছবিটা বেশি সত্যি হয়।
হাতে-কলমে হিসাব
- ধরা যাক ১,০০,০০০ টাকা ইনভেস্ট করলেন, পাঁচ বছর পরে হলো ১,৫০,০০০ টাকা। মোট রিটার্ন ৫০%।
- ৫০% ÷ ৫ = বছরে ১০% ভাবলে ভুল হবে, কারণ প্রতি বছরের লাভ পরের বছরে আবার বাড়ে।
- সঠিক হিসাব: (১,৫০,০০০ ÷ ১,০০,০০০)^(১/৫) − ১ ≈ ০.০৮৪, মানে বছরে প্রায় ৮.৪%। যাচাই: ১,০০,০০০ টাকা বছরে ৮.৪% হারে পাঁচ বছরে প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা হয়।
- এই সময়ে গড় ইনফ্লেশন যদি বছরে ৬–৭% হয়, তাহলে আসল বৃদ্ধি বছরে মাত্র ২%-এর আশেপাশে, কর বা ফি থাকলে আরও কম।
ফল: "পাঁচ বছরে ৫০%" শুনতে বড়, কিন্তু বছরে প্রায় ৮.৪%, আর ইনফ্লেশনের পরে অনেক কম। সব রিটার্নকে বছরে আর ইনফ্লেশনের পরে এনে তবেই তুলনা করুন।
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- কয়েক বছরের মোট রিটার্নকে বছরের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে বার্ষিক রিটার্ন ধরা।
- শেয়ারের শুধু দাম দেখা আর ডিভিডেন্ড বাদ দেওয়া, অথবা শুধু ডিভিডেন্ড দেখা আর দামের পতন বাদ দেওয়া।
- করের আগের একটা রিটার্নের সঙ্গে করের পরের আরেকটা রিটার্ন তুলনা করা।
- একটা ভালো বছরের রিটার্ন দেখে ধরে নেওয়া প্রতি বছরই এমন হবে।
রিটার্ন তুলনার আগে তিনটা জিনিস এক করুন: বছরে কত, করের পরে কত, আর ইনফ্লেশনের পরে কত।