ROE কী
রিটার্ন অন ইকুইটি = নিট মুনাফা ÷ শেয়ারহোল্ডারস ইকুইটি। নিট মুনাফা আসে ইনকাম স্টেটমেন্টের একদম নিচের লাইন থেকে, আর ইকুইটি ব্যালান্স শিট থেকে: সব সম্পদ থেকে সব দায় বাদ দিলে যা থাকে। বছরের শুরু আর শেষে ইকুইটি আলাদা হলে অনেকে দুটোর গড় নেন।
সহজ কথায়, ROE বলে মালিকদের প্রতি ১০০ টাকা থেকে কোম্পানি বছরে কত টাকা মুনাফা করছে। ROE ১৫% মানে মালিকদের প্রতি ১০০ টাকায় বছরে ১৫ টাকা মুনাফা। এই মুনাফার কিছু ডিভিডেন্ড হিসেবে আসে, বাকিটা ব্যবসায় থেকে ইকুইটি বাড়ায়।
ধরা যাক মিতু আর জামান দুজনেই নিজের ২ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। মিতুর টিফিন সার্ভিস বছরে নিট ৪০,০০০ টাকা মুনাফা করে, ROE ২০%। জামানের কাপড়ের দোকান করে ২০,০০০ টাকা, ROE ১০%। একই টাকা খাটিয়ে মিতুর ব্যবসা দ্বিগুণ মুনাফা দিচ্ছে। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- ম্যানেজমেন্ট মালিকদের টাকা কতটা কাজে লাগাচ্ছে বুঝতে: বছরের পর বছর ভালো ROE সাধারণত শক্ত ব্যবসার লক্ষণ।
- ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির ধারণা পেতে: যে কোম্পানি বেশি ROE-তে মুনাফা ব্যবসায় রেখে দিতে পারে, তার ইকুইটি আর মুনাফা দ্রুত বাড়তে পারে।
- বিকল্পের সঙ্গে তুলনা করতে: মালিকের টাকায় কোম্পানির ROE যদি দীর্ঘদিন ঝুঁকিহীন আমানতের সুদের চেয়েও কম হয়, সেটা ভাবার বিষয়।
- পি/বি বুঝতে: যে কোম্পানির ROE বেশি, বাজার সাধারণত তার বুক ভ্যালুর তুলনায় বেশি দাম দেয়।
ডুপন্ট: ROE তিন ভাগে ভেঙে দেখা
একই ROE তিনটা খুব আলাদা পথে আসতে পারে। ডুপন্ট পদ্ধতি ROE-কে তিনটা অংশের গুণফল হিসেবে দেখায়: ROE = নিট প্রফিট মার্জিন × অ্যাসেট টার্নওভার × লেভারেজ। মানে, প্রতি ১০০ টাকা বিক্রিতে কত মুনাফা, সম্পদ দিয়ে কত বিক্রি হয়, আর সম্পদের কতটা মালিকের টাকায় বনাম ধারের টাকায় কেনা।
- নিট প্রফিট মার্জিন = নিট মুনাফা ÷ বিক্রি। দামি ব্র্যান্ড বা বিশেষ পণ্যে সাধারণত বেশি।
- অ্যাসেট টার্নওভার = বিক্রি ÷ মোট সম্পদ। সুপারশপ বা ট্রেডিং ব্যবসার মতো কম মার্জিন, বেশি বিক্রির ব্যবসায় সাধারণত বেশি।
- লেভারেজ = মোট সম্পদ ÷ ইকুইটি। ঋণ যত বেশি, এটা তত বেশি, আর ROE-ও তত বড় দেখায়।
কখন বেশি ROE বিভ্রান্তিকর
- বেশি ঋণ: ইকুইটি ছোট আর ঋণ বড় হলে ROE বেশি দেখায়, কিন্তু ঝুঁকিও বাড়ে। খারাপ বছরে একই ঋণ লোকসান বড় করে।
- এককালীন লাভ: জমি বা সাবসিডিয়ারি বিক্রির লাভে এক বছরের মুনাফা ফুলে উঠতে পারে, যা প্রতি বছর আসবে না।
- ছোট বা ঋণাত্মক ইকুইটি: আগের লোকসানে ইকুইটি প্রায় শেষ হয়ে গেলে সামান্য মুনাফাতেও ROE বিশাল দেখায়; ইকুইটি ঋণাত্মক হলে ROE-র আর কোনো অর্থ থাকে না।
- এক বছরের সংখ্যা: একটা ভালো বছর নয়, পাঁচ থেকে দশ বছরের ROE দেখলে ব্যবসার আসল চরিত্র বোঝা যায়।
হাতে-কলমে হিসাব
- ধরা যাক "রূপসা ফুডস লিমিটেড" নামের একটা কাল্পনিক কোম্পানির বছরের বিক্রি ৩০০ কোটি টাকা, নিট মুনাফা ৩০ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে ইকুইটি ১৯০ কোটি, শেষে ২১০ কোটি; গড় ২০০ কোটি টাকা।
- ROE = ৩০ ÷ ২০০ = ১৫%।
- গড় মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা হলে: মার্জিন = ৩০ ÷ ৩০০ = ১০%, টার্নওভার = ৩০০ ÷ ৫০০ = ০.৬, লেভারেজ = ৫০০ ÷ ২০০ = ২.৫।
- মিলিয়ে দেখুন: ১০% × ০.৬ × ২.৫ = ১৫%।
ফল: ১৫% ROE-র বড় একটা অংশ আসছে লেভারেজ থেকে। সব সম্পদ যদি মালিকের টাকায় কেনা হতো (লেভারেজ ১), একই ব্যবসায় ROE হতো প্রায় ৬%। তাই শুধু ROE নয়, সেটা কোন পথে আসছে তা দেখুন। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- শুধু ROE-র সংখ্যা দেখা, ঋণের ভূমিকা না দেখা।
- এক বছরের ROE দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া, কয়েক বছরের ধারা না দেখা।
- ঋণাত্মক বা খুব ছোট ইকুইটির কোম্পানির বিশাল ROE-কে সাফল্য ভাবা।
- ভিন্ন খাতের ROE সরাসরি তুলনা করা; ব্যবসার ধরন অনুযায়ী স্বাভাবিক ROE আলাদা।
ROE বলে মালিকের প্রতি ১০০ টাকায় কোম্পানি কত মুনাফা করে; কয়েক বছরের ধারা দেখুন, আর ডুপন্ট দিয়ে যাচাই করুন সেটা মার্জিন, বিক্রি না ঋণ থেকে আসছে।