BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ)

কোম্পানির মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কে পাবে, কখন পাবে, নগদে না শেয়ারে, আর কর কেটে কত থাকে, সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।

ভিডিও আসছে
ডিভিডেন্ড: ঘোষণা থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা আসা পর্যন্ত

ডিভিডেন্ড কী

কোম্পানি বছর শেষে মুনাফা করলে সেই টাকা দিয়ে দুটো কাজ করতে পারে: ব্যবসায় আবার খাটাতে পারে (নতুন মেশিন, নতুন শাখা), অথবা মালিকদের, মানে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে। যে অংশ ভাগ করে দেওয়া হয়, সেটাই ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ। শেয়ারের রিটার্নের দুটো উৎসের একটা এটা; অন্যটা দাম বাড়া, মানে ক্যাপিটাল গেইন।

ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানির ইচ্ছা, বাধ্যবাধকতা নয়। পরিচালনা পর্ষদ প্রস্তাব করে, আর শেয়ারহোল্ডাররা বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদন করেন। কোম্পানি লোকসানে থাকলে, বা টাকা ব্যবসায় লাগলে, ডিভিডেন্ড না-ও দিতে পারে।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক পাড়ার পাঁচজন মিলে একটা ভ্যান কিনে ভাড়া দেন, প্রত্যেকের সমান ভাগ। বছর শেষে ভাড়া থেকে ৫০,০০০ টাকা লাভ হলো। তাঁরা ঠিক করলেন ২০,০০০ টাকা রেখে দেবেন নতুন টায়ার আর মেরামতের জন্য, আর বাকি ৩০,০০০ টাকা ভাগ করে নেবেন, প্রত্যেকে ৬,০০০ টাকা। ওই ৬,০০০ টাকাই প্রত্যেকের "ডিভিডেন্ড"। চরিত্র আর সংখ্যাগুলো কাল্পনিক।

একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি

  • মোট রিটার্ন বুঝতে: শেয়ারের লাভ = ডিভিডেন্ড + দামের পরিবর্তন। শুধু একটা দেখলে পুরো ছবি পাওয়া যায় না।
  • সময়মতো যোগ্য হতে: রেকর্ড ডেটে আপনার বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার না থাকলে ডিভিডেন্ড পাবেন না, আগে যতদিনই রাখুন।
  • ক্যাশ আর স্টক ডিভিডেন্ডের পার্থক্য বুঝতে: দুটো শুনতে একই রকম, কিন্তু হাতে টাকা আসে শুধু একটাতে।
  • নিজের টাকা হারিয়ে না ফেলতে: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ভুল থাকলে লভ্যাংশ আটকে থাকতে পারে।

ঘোষণা থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত

  • পর্ষদের ঘোষণা: বছরের হিসাব চূড়ান্ত হলে পর্ষদ সভা করে ডিভিডেন্ড প্রস্তাব করে, আর রেকর্ড ডেট ও এজিএমের তারিখ জানায়। খবরটা এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।
  • রেকর্ড ডেট: যেদিনের শেয়ারহোল্ডার তালিকা ধরে ডিভিডেন্ড আর এজিএমে ভোটের অধিকার ঠিক হয়। বাংলাদেশে রেকর্ড ডেটের দিন ওই শেয়ারের লেনদেন বন্ধ থাকে, আর তার আগের দিনগুলোতে কেনাবেচার সেটেলমেন্ট দ্রুত করা হয়, যাতে ক্রেতার নাম সময়মতো তালিকায় ওঠে। এই নিয়ম বদলানোর প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
  • এজিএম: শেয়ারহোল্ডাররা প্রস্তাবিত ডিভিডেন্ড অনুমোদন করেন।
  • টাকা পাওয়া: জানুয়ারি ২০২১-এর বিএসইসি নির্দেশনা অনুযায়ী এজিএমে অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানিকে নগদ লভ্যাংশ দিতে হয়, ইলেকট্রনিকভাবে শেয়ারহোল্ডারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। নিয়ম বদলাতে পারে।

ক্যাশ, স্টক আর পে-আউট রেশিও

ক্যাশ ডিভিডেন্ডে টাকা আসে। স্টক ডিভিডেন্ড (বোনাস শেয়ার) মানে টাকার বদলে বাড়তি শেয়ার; কোম্পানির মোট মূল্য একই থাকে, শুধু টুকরো বেশি হয়, তাই রেকর্ড ডেটের পরে দাম সেই অনুপাতে সমন্বয় হয়। বাংলাদেশে দুটোই সাধারণত ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর শতাংশে ঘোষণা হয়: "১০% ক্যাশ" মানে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা, "১০% স্টক" মানে প্রতি ১০টা শেয়ারে ১টা নতুন শেয়ার।

পে-আউট রেশিও বলে কোম্পানি মুনাফার কত অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে দিল: শেয়ারপ্রতি ডিভিডেন্ড ÷ শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)। কম পে-আউট মানে বেশিরভাগ টাকা ব্যবসায় ফেরত যাচ্ছে; ১০০%-এর বেশি পে-আউট মানে কোম্পানি সে বছরের আয়ের চেয়ে বেশি দিচ্ছে, যা পুরোনো জমানো মুনাফা বা ধার থেকে আসছে, আর তা সাধারণত দীর্ঘদিন চলে না।

কর আর দাবি না করা লভ্যাংশ

অর্থ আইন ২০২৬ (২০২৬–২৭ অর্থবছর) অনুযায়ী ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর ডিভিডেন্ড আয়ে সমান ১৫% কর, যা কোম্পানি টাকা দেওয়ার আগেই কেটে রাখে আর এটাই চূড়ান্ত কর। আগের বছরগুলোতে নিয়ম আলাদা ছিল, আর প্রতি বছরের অর্থ আইনে এটা বদলাতে পারে। স্টক ডিভিডেন্ডে হাতে টাকা আসে না, তাই এখানে কর কাটার প্রশ্নও আলাদা।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা বিও-তে দেওয়া তথ্য ভুল হলে টাকা পৌঁছায় না। বিএসইসির নিয়মে তিন বছর ধরে দাবি না করা লভ্যাংশ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে (সিএমএসএফ) পাঠাতে হয়, তবে মালিকানা প্রমাণ করে পরে তা দাবি করা যায়।

হাতে-কলমে হিসাব

মুনাফা থেকে আপনার অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)
  1. ধরা যাক একটা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বছরে ৪ টাকা। পর্ষদ ২০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রস্তাব করল, মানে ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ওপর শেয়ারপ্রতি ২ টাকা।
  2. পে-আউট রেশিও: ২ ÷ ৪ = ৫০%। বাকি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা কোম্পানি ব্যবসায় রেখে দিল।
  3. রেকর্ড ডেটে আপনার বিও অ্যাকাউন্টে ৫০০টা শেয়ার আছে: মোট ডিভিডেন্ড ১,০০০ টাকা। ১৫% কর কাটার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে ৮৫০ টাকা।

ফল: ঘোষণা "২০%" হলেও আপনার হাতে আসে শেয়ারপ্রতি ১.৭০ টাকা, আর কোম্পানি মুনাফার অর্ধেক ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিয়েছে। শেয়ারের দাম কত দিয়ে কিনেছেন, তার তুলনায় এটা কত শতাংশ, সেটাই আপনার আসল ডিভিডেন্ড ইল্ড। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • রেকর্ড ডেটের দিন বা পরে শেয়ার কিনে ভাবা এবারের ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে।
  • রেকর্ড ডেটের পরে দাম কমে গেলে ভাবা "লোকসান হয়ে গেল"। দামের এই সমন্বয় ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ারেরই অন্য পিঠ।
  • ১০০%-এর বেশি পে-আউট দেখে খুশি হওয়া, টাকা কোথা থেকে আসছে না দেখে।
  • বিও অ্যাকাউন্টে ব্যাংকের তথ্য হালনাগাদ না রাখা, ফলে লভ্যাংশ আটকে যাওয়া।
মনে রাখুন

ডিভিডেন্ড কোম্পানির ইচ্ছা, প্রতিশ্রুতি নয়: রেকর্ড ডেটে শেয়ার থাকলে পাবেন, ক্যাশ হলে কর কেটে টাকা আসবে, আর স্টক হলে শেয়ার বাড়বে কিন্তু দাম সেই অনুপাতে সমন্বয় হবে।

এর সঙ্গে আরও পড়ুন

সূত্র
এজিএমে অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ, শেয়ারহোল্ডারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক পরিশোধ, তিন বছর দাবি না করা লভ্যাংশ তহবিলে (বিএসইসি নির্দেশনা, ১৪ জানুয়ারি ২০২১): দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
দাবি না করা লভ্যাংশ সিএমএসএফ-এ, পরে দাবি করা যায় (লিস্টিং রেগুলেশনস ২০১৫ সংশোধন): দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, "Listed cos to be penalised on failing to transfer unclaimed dividends to Stabilisation Fund", ১১ জুন ২০২৩, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
রেকর্ড ডেটের দিন লেনদেন বন্ধ, নিয়ম বদলানোর প্রস্তাব: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, "DSE plans to allow trading on record dates", ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
ব্যক্তির ডিভিডেন্ড আয়ে সমান ১৫% চূড়ান্ত কর: অর্থ আইন ২০২৬ (২০২৬–২৭), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৯ জুন ২০২৬, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের অভিন্ন ফেস ভ্যালু ১০ টাকা (২০১১ থেকে): দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ১৩ জুলাই ২০২১, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়। সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা সময়ের; আজকের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।