ডিভিডেন্ড ইল্ড কী
ডিভিডেন্ড ইল্ড = বছরে শেয়ারপ্রতি নগদ ডিভিডেন্ড ÷ শেয়ারের বাজারদাম। শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ডিভিডেন্ড আর দাম ৬০ টাকা হলে ইল্ড ৫%। মানে, আজকের দামে কিনলে আর ডিভিডেন্ড একই থাকলে, বিনিয়োগের ৫% বছরে নগদে ফেরত আসবে।
বাংলাদেশে ডিভিডেন্ড সাধারণত ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর শতাংশ হিসেবে ঘোষণা হয়, তাই "৩০% ডিভিডেন্ড" মানে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা, ৩০% ইল্ড নয়। ঘোষণা কীভাবে পড়বেন, তা বিস্তারিত আছে ডিভিডেন্ড ইনভেস্টিং পাঠে; এখানে আমরা দেখব রেশিও হিসেবে ইল্ড কী বলে আর কী বলে না।
ধরা যাক শাহানা আপার ৫০ লাখ টাকা দামের একটা ফ্ল্যাট বছরে দেড় লাখ টাকা ভাড়া দেয়। দামের তুলনায় ভাড়া ৩%; এটাই ফ্ল্যাটের "ইল্ড"। এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম ৬০ লাখ হয়ে গেলে, একই ভাড়ায় নতুন ক্রেতার ইল্ড হবে ২.৫%। শেয়ারের ডিভিডেন্ড ইল্ডও এমনই: দাম বদলালে ইল্ড বদলায়। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি
- ডিভিডেন্ডকে দামের সঙ্গে মেলাতে: ঘোষিত শতাংশ নয়, ইল্ডই বলে আপনার টাকার তুলনায় কত নগদ আসছে।
- মোট রিটার্নের একটা অংশ চিনতে: শেয়ারের রিটার্ন = ডিভিডেন্ড ইল্ড + দামের পরিবর্তন। শুধু ইল্ড দেখলে অর্ধেক ছবি দেখা হয়।
- কোম্পানির নীতি বুঝতে: কম ইল্ড মানে সব সময় দুর্বলতা নয়; অনেক কোম্পানি মুনাফা ব্যবসা বাড়াতে রেখে দেয়।
- ডিভিডেন্ড বাদ পড়ার ঝুঁকি বুঝতে: বিএসইসির নিয়মে, ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরপর দুই বছর ডিভিডেন্ড না দিলে কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে নামতে পারে। এই নিয়ম কয়েকবার বদলেছে, আবারও বদলাতে পারে।
কোন ডিভিডেন্ড, কোন দাম
- ট্রেইলিং ইল্ড: গত বছরে আসলে দেওয়া ডিভিডেন্ড ÷ আজকের দাম। নিশ্চিত তথ্যে হিসাব, কিন্তু অতীতের।
- ফরোয়ার্ড ইল্ড: আগামী বছরের প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড ÷ আজকের দাম। ভবিষ্যৎমুখী, কিন্তু অনুমাননির্ভর।
- কেনা দামের ইল্ড (ইল্ড অন কস্ট): ডিভিডেন্ড ÷ আপনি যে দামে কিনেছিলেন। আপনার নিজের আয়ের হিসাবে কাজে লাগে, কিন্তু আজ শেয়ারটা কতটা দামি বা সস্তা, তা বলে না।
- শুধু নগদ ডিভিডেন্ড ধরুন। বোনাস শেয়ার ইল্ডের মধ্যে পড়ে না, কারণ তাতে কোম্পানি থেকে টাকা বের হয় না।
ডিভিডেন্ড টিকবে কি না: পেআউট রেশিও
পেআউট রেশিও = শেয়ারপ্রতি ডিভিডেন্ড ÷ শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)। কোম্পানি মুনাফার কত অংশ ভাগ করে দিচ্ছে, তা দেখায়। ৪০% পেআউট মানে মুনাফার ৪০% ডিভিডেন্ড, ৬০% ব্যবসায়। পেআউট ১০০%-এর কাছে বা বেশি হলে কোম্পানি যা কামায় তার সবটা বা তার চেয়েও বেশি দিচ্ছে, যা দীর্ঘদিন চলে না।
খাতার মুনাফার পাশাপাশি নগদ প্রবাহও দেখুন। ডিভিডেন্ড দেওয়া হয় নগদ টাকায়; মুনাফা থাকলেও ব্যবসা থেকে যদি যথেষ্ট নগদ না আসে, বা কোম্পানি ধার করে ডিভিডেন্ড দেয়, সেটা সতর্কসংকেত।
এফডিআরের সুদের সঙ্গে তুলনা
অনেকে ডিভিডেন্ড ইল্ডকে এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের হারের পাশে রাখেন। তুলনাটা কাজের, কিন্তু সমান নয়। আমানতের সুদ চুক্তিতে নির্ধারিত আর আসল টাকা দামের ওঠানামায় কমে না; ডিভিডেন্ডের কোনো নিশ্চয়তা নেই, আর শেয়ারের দাম পড়লে ভালো ইল্ড পেয়েও মোট লোকসান হতে পারে। আবার ডিভিডেন্ড সময়ের সঙ্গে বাড়তেও পারে, যা নির্ধারিত সুদে হয় না।
হাতে-কলমে হিসাব
- ধরা যাক "রূপসা ফুডস লিমিটেড" নামের একটা কাল্পনিক কোম্পানির ইপিএস ৩ টাকা, আর তারা ১৫% নগদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করল: শেয়ারপ্রতি ১.৫০ টাকা। পেআউট = ১.৫ ÷ ৩ = ৫০%।
- দাম ৩০ টাকা হলে ট্রেইলিং ইল্ড = ১.৫ ÷ ৩০ = ৫%।
- খারাপ খবরে দাম নেমে ২০ টাকা হলো। একই পুরোনো ডিভিডেন্ডে ইল্ড এখন দেখায় ১.৫ ÷ ২০ = ৭.৫%।
- কিন্তু পরের বছর ইপিএস নেমে ১ টাকা হলো। ১.৫০ টাকা দিতে পেআউট লাগবে ১৫০%, তাই কোম্পানি দিল ০.৫০ টাকা। ২০ টাকা দামে আসল ইল্ড দাঁড়াল ২.৫%।
ফল: ৭.৫% ইল্ড ছিল পুরোনো ডিভিডেন্ড আর নতুন, কম দামের হিসাব। বেশি ইল্ড দেখলে আগে জিজ্ঞেস করুন দাম কেন পড়েছে, আর মুনাফা ও নগদ টাকা ডিভিডেন্ড টেকাতে পারবে কি না। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।
যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়
- ফেস ভ্যালুর ওপর ঘোষিত শতাংশকে ইল্ড ভাবা।
- গত বছরের ডিভিডেন্ড আর আজকের পড়ে যাওয়া দাম মিলিয়ে বড় ইল্ড দেখে আকৃষ্ট হওয়া, ডিভিডেন্ড টিকবে কি না না দেখা।
- পেআউট রেশিও আর নগদ প্রবাহ না দেখা।
- ডিভিডেন্ড ইল্ডকে এফডিআরের নির্ধারিত সুদের মতো নিশ্চিত আয় ভাবা।
ডিভিডেন্ড ইল্ড = নগদ ডিভিডেন্ড ÷ দাম; বেশি ইল্ড দেখলে আগে পেআউট রেশিও আর নগদ প্রবাহ দেখে বুঝুন ডিভিডেন্ডটা টিকবে কি না।