BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

মানি মার্কেট ফান্ড

এমন একটা ফান্ড, যা শুধু খুব স্বল্পমেয়াদি আর সহজে বিক্রি করা যায় এমন ধারে টাকা রাখে, যেমন ট্রেজারি বিল। লক্ষ্য বড় লাভ নয়, টাকা স্থির রাখা আর দরকারে দ্রুত তুলতে পারা। তবু এটা ব্যাংক আমানত নয়।

ভিডিও আসছে
মানি মার্কেট ফান্ড: খুব স্বল্পমেয়াদি ধারে টাকা রাখার ফান্ড

মানি মার্কেট ফান্ড কী

মানি মার্কেট মানে খুব স্বল্পমেয়াদি ধারের বাজার: এক দিন থেকে এক বছরের মতো মেয়াদের ধার। মানি মার্কেট ফান্ড অনেক মানুষের টাকা একসঙ্গে করে শুধু এই ধরনের জিনিসে রাখে, যেমন সরকারি ট্রেজারি বিল, স্বল্পমেয়াদি আমানত, আর বড় প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি ধারপত্র (কমার্শিয়াল পেপার)। মেয়াদ খুব ছোট বলে এগুলোর দাম সাধারণত খুব একটা ওঠানামা করে না।

আমেরিকার এসইসির ভাষায়, মানি মার্কেট ফান্ড সাধারণত অন্য বেশিরভাগ ফান্ডের চেয়ে কম ঝুঁকির, কিন্তু রিটার্নও ঐতিহাসিকভাবে কম। আর এটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নয়: আমেরিকায় এই ফান্ডের টাকা ব্যাংক আমানতের মতো সরকারি আমানত বীমার আওতায় পড়ে না, তাই কিছু বা সব টাকা হারানো সম্ভব।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক মহল্লার কয়েকজন দোকানদার মিলে একটা তহবিল বানালেন, যেটা শুধু এক সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য ধার দেয়, আর শুধু তাদেরকেই, যারা সবচেয়ে নিয়মিত শোধ করে। লাভ খুব বেশি হয় না, কিন্তু টাকা দ্রুত ঘুরে ফেরে, আর দরকার হলে নিজের ভাগ তাড়াতাড়ি তুলে নেওয়া যায়। তবে কোনো ঋণী হঠাৎ শোধ না করলে সবার ভাগই একটু কমে যায়। মানি মার্কেট ফান্ড এভাবেই কাজ করে।

একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি

  • স্বল্পমেয়াদি টাকা কোথায় রাখা যায় বুঝতে: কয়েক মাসের মধ্যে লাগবে এমন টাকার জন্য এটা একটা ধরন, তবে ঝুঁকি আর নিয়ম বুঝে।
  • রিটার্ন কেন বদলায় বুঝতে: ফান্ডের বিনিয়োগ খুব দ্রুত নবায়ন হয়, তাই স্বল্পমেয়াদি সুদের হার বদলালে ফান্ডের আয়ও দ্রুত বদলায়।
  • "প্রায় নগদ" আর "নগদ"-এর পার্থক্য বুঝতে: দাম খুব স্থির থাকলেও এটা ব্যাংক আমানত নয়, আর নিশ্চয়তাও নেই।
  • খরচের প্রভাব বুঝতে: রিটার্ন যেহেতু কম, ফান্ডের ফি তার বড় অংশ খেয়ে ফেলতে পারে।

রিটার্ন কেন সুদের হারের পেছনে পেছনে চলে

মানি মার্কেট ফান্ডের বিনিয়োগ কয়েক দিন বা কয়েক মাসেই মেয়াদ শেষ হয়, আর তখন ফান্ড নতুন হারে আবার বিনিয়োগ করে। তাই এর রিটার্ন মোটামুটি ট্রেজারি বিলের মতো স্বল্পমেয়াদি হারের সঙ্গে ওঠানামা করে, ফি বাদে।

বাংলাদেশে এই হার কতটা বদলাতে পারে, ট্রেজারি বিলই দেখায়: এপ্রিল ২০২১-এ ৯১ দিনের বিলের ইল্ড ছিল মাত্র ০.৫৫%, আর জুন ২০২৫-এ তা ছিল প্রায় ১২%। হার যখন খুব কম, তখন ফান্ডের ফি আয়ের বড় অংশ, এমনকি পুরোটাই খেয়ে ফেলতে পারে; আমেরিকার এসইসিও এই ঝুঁকির কথা বলে।

২০০৮ সালের শিক্ষা

আমেরিকায় বেশিরভাগ মানি মার্কেট ফান্ড ইউনিটপ্রতি মূল্য ১ ডলারে স্থির রাখার চেষ্টা করে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ সেখানকার একটা বড় পুরোনো ফান্ড, রিজার্ভ প্রাইমারি ফান্ড, এই ১ ডলারের নিচে নেমে যায়, যাকে বলে "ব্রেকিং দ্য বাক"। কারণ, ফান্ডটির কাছে সদ্য দেউলিয়া হওয়া লেম্যান ব্রাদার্সের ৭৮.৫ কোটি ডলারের ধারপত্র ছিল।

শিক্ষাটা সহজ: খুব স্বল্পমেয়াদি ধারও ঝুঁকিহীন নয়। ফান্ড কার কাছে ধার দিয়েছে, শুধু সরকারি বিলে নাকি প্রতিষ্ঠানের ধারপত্রেও, সেটাই ঠিক করে ঝুঁকি কতটা।

বাংলাদেশে অবস্থা

আমেরিকার মতো "মানি মার্কেট ফান্ড" নামে আলাদা পরিচিত কোনো ফান্ড শ্রেণি বাংলাদেশে আমাদের খোঁজে চোখে পড়েনি। সবচেয়ে কাছাকাছি হলো ওপেন-এন্ড ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, যাদের অনেকের বড় অংশ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে থাকে; তবে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি বন্ডও রাখতে পারে, তাই বেশি ওঠানামা করতে পারে। কোনো ফান্ড নিজেকে মানি মার্কেট বা "প্রায় নগদ" বললে, তার প্রসপেক্টাসে দেখুন সে আসলে কী কেনে।

হাতে-কলমে হিসাব

সুদের হার, ফি আর ইনফ্লেশন (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)
  1. ধরা যাক স্বল্পমেয়াদি হার খুব কম, ফান্ডের বিনিয়োগ বছরে ২% আয় দেয়। ফান্ডের বার্ষিক খরচ ১%। আপনার হাতে আসে প্রায় ১%: ১,০০,০০০ টাকায় বছরে প্রায় ১,০০০ টাকা।
  2. একই বছরে ইনফ্লেশন ৫% হলে, টাকার অঙ্ক একটু বাড়লেও কেনার ক্ষমতা প্রায় ৪% কমল।
  3. এখন ধরা যাক হার বেড়ে ১২% হলো, খরচ একই ১%। হাতে আসে প্রায় ১১%: একই ১,০০,০০০ টাকায় প্রায় ১১,০০০ টাকা।

ফল: একই ফান্ড, একই ফি, কিন্তু রিটার্ন পুরোটাই নির্ভর করছে তখনকার স্বল্পমেয়াদি হারের ওপর। হার কম থাকলে ফি আয়ের অর্ধেক খেয়ে ফেলে। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • মানি মার্কেট ফান্ডকে ব্যাংক আমানত ভাবা। এটা ফান্ড, নিশ্চয়তা নেই।
  • ধরে নেওয়া যে গত বছরের রিটার্নই সামনেও থাকবে। স্বল্পমেয়াদি হার বদলালে রিটার্ন দ্রুত বদলায়।
  • কম রিটার্নের ফান্ডে ফি উপেক্ষা করা। আয় যখন অল্প, ফি তার বড় অংশ।
  • নাম দেখে ধরে নেওয়া ফান্ডে শুধু সরকারি বিল আছে। প্রতিষ্ঠানের ধারপত্র বা দীর্ঘমেয়াদি বন্ডও থাকতে পারে।
মনে রাখুন

মানি মার্কেট ফান্ড খুব স্বল্পমেয়াদি ধারের একটা ঝুড়ি: স্থির আর সহজে তোলা যায়, কিন্তু নিশ্চিত নয়, আর রিটার্ন চলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হারের পেছনে, ফি বাদে।

এর সঙ্গে আরও পড়ুন

সূত্র
মানি মার্কেট ফান্ড কী রাখে, কম ঝুঁকি কিন্তু কম রিটার্ন, এফডিআইসি বীমা নেই, হার কম হলে ফি আয় ছাড়িয়ে যেতে পারে, "ব্রেকিং দ্য বাক": ইউএস এসইসি, Investor.gov, "Money Market Funds: Investor Bulletin", ৪ নভেম্বর ২০২৪, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
স্থির ১ ডলারের এনএভি: ইউএস এসইসি, Investor.gov, "Money Market Funds", দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ রিজার্ভ প্রাইমারি ফান্ড ১ ডলারের নিচে, লেম্যানের ৭৮.৫ কোটি ডলারের ধারপত্র: ইউএস এসইসি, লিটিগেশন রিলিজ নং ২১০২৫, ৫ মে ২০০৯, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
এপ্রিল ২০২১-এ ৯১ দিনের ট্রেজারি বিল ০.৫৫%: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, "Yields on treasury bills drop", ২৬ এপ্রিল ২০২১, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
জুন ২০২৫-এ ৯১ দিনের ট্রেজারি বিল ১২.০২%: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, "T-bills witness sharp rise in yields ahead of Eid-ul-Azha", ২ জুন ২০২৫, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
বাংলাদেশের ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের বেশিরভাগ সম্পদ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, "Fixed-income mutual funds gain traction when equity struggles", ১৯ নভেম্বর ২০২৪, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়। সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা সময়ের; আজকের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।