BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

রিস্ক টলারেন্স

আপনি কতটা লোকসান সহ্য করতে পারবেন, টাকার দিক থেকে আর মনের দিক থেকে। এটা ঠিকমতো না বুঝলে ভালো পরিকল্পনাও খারাপ সময়ে ভেঙে পড়ে।

ভিডিও আসছে
রিস্ক টলারেন্স: আপনি আসলে কতটা ঝুঁকি সামলাতে পারেন?

রিস্ক টলারেন্স কী

রিস্ক টলারেন্স মানে আপনার ইনভেস্টমেন্টের একটা অংশ বা পুরোটা হারানোর সম্ভাবনা মেনে নেওয়ার সামর্থ্য আর মানসিক প্রস্তুতি। এর দুটো দিক আছে। "সামর্থ্য" হলো লোকসান হলে আপনার জীবন কতটা চলবে। "মানসিকতা" হলো লোকসান দেখলে আপনি কতটা শান্ত থাকতে পারবেন।

দুটো সবসময় মেলে না। কেউ হয়তো রিস্ক নিতে খুব আগ্রহী, কিন্তু তাঁর আয় অনিশ্চিত আর পরিবার তাঁর ওপর নির্ভরশীল। আবার কারও আর্থিক অবস্থা শক্ত, কিন্তু ১০% পতনেই তাঁর ঘুম চলে যায়। দুটোর মধ্যে যেটা কম, সাধারণত সেটাকেই সীমা ধরা নিরাপদ।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক তানিয়া আর রফিক দুজনেরই বয়স ৩০। তানিয়ার চাকরি স্থায়ী, ছয় মাসের খরচের ইমার্জেন্সি ফান্ড আছে, ঋণ নেই। রফিকের আয় মাসে মাসে ওঠানামা করে, বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচও তিনি চালান। একই বয়স, কিন্তু লোকসান সামলানোর সামর্থ্য তানিয়ার অনেক বেশি। বয়স একটা দিক মাত্র, পুরো ছবি নয়। চরিত্রগুলো কাল্পনিক।

একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি

  • ভুল সময়ে বিক্রি এড়াতে: সহ্যের বেশি রিস্ক নিলে বাজার পড়লে মানুষ আতঙ্কে কম দামে বিক্রি করে ফেলে, আর লোকসানটা স্থায়ী হয়ে যায়।
  • অ্যাসেট অ্যালোকেশন ঠিক করতে: শেয়ার, বন্ড, আমানতের মধ্যে টাকা কীভাবে ভাগ হবে, তার একটা বড় ভিত্তি রিস্ক টলারেন্স।
  • খুব কম রিস্কের ক্ষতিও বুঝতে: অতিরিক্ত সাবধান থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা ইনফ্লেশনের সঙ্গে তাল রাখতে না-ও পারে।
  • অন্যের কথায় না চলতে: বন্ধু বা আত্মীয়ের জন্য যা ঠিক, তা আপনার পরিস্থিতিতে ঠিক না-ও হতে পারে।

কোন বিষয়গুলো রিস্ক নেওয়ার সামর্থ্য ঠিক করে

  • টাকাটা কখন লাগবে: যে টাকা ১–২ বছরের মধ্যে লাগবে, তাতে বড় পতন সামলানোর সময় নেই। ১০–১৫ বছর পরের টাকায় সময় বেশি।
  • আয় কতটা স্থির: নিয়মিত বেতন বা রেমিট্যান্স থাকলে লোকসান সামলানো সহজ; অনিয়মিত আয়ে কঠিন।
  • ইমার্জেন্সি ফান্ড আর ঋণ: হাতে জরুরি ফান্ড না থাকলে বা ঋণের কিস্তি বেশি হলে, খারাপ সময়ে ইনভেস্টমেন্ট ভাঙতে বাধ্য হতে পারেন।
  • কারা আপনার ওপর নির্ভরশীল: পরিবারের দায়িত্ব যত বেশি, লোকসানের প্রভাব তত বড়।

মানসিকতা: কাগজে আর বাস্তবে

বাজার যখন ভালো যায়, প্রায় সবাই নিজেকে সাহসী ভাবে। আসল পরীক্ষা হয় পতনের সময়। উদাহরণ হিসেবে, ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক এক দিনেই প্রায় ৬.৭২% পড়ে গিয়েছিল। এমন দিনে আপনি কী করতেন, সেটা ভাবলে নিজের মানসিকতা সম্পর্কে অনেক কিছু বোঝা যায়।

পতন বিরল ঘটনাও নয়। মার্কিন সিকিউরিটিজ রেগুলেটর এসইসি-র ইনভেস্টর গাইড বলছে, ইতিহাসে আমেরিকার বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার গড়ে প্রায় প্রতি তিন বছরে এক বছর লোকসানে শেষ হয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারে থাকলে খারাপ বছর আসবে, প্রশ্ন শুধু কবে।

হাতে-কলমে হিসাব

শতাংশ থেকে টাকায় (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)
  1. ধরা যাক আপনার মোট ইনভেস্টমেন্ট ৫,০০,০০০ টাকা, যার ৬০% (৩,০০,০০০ টাকা) শেয়ারে, বাকি ৪০% (২,০০,০০০ টাকা) আমানতে।
  2. একটা খারাপ বছরে শেয়ারের দাম ৩০% পড়ল: শেয়ারের অংশ কমল ৯০,০০০ টাকা।
  3. মোট ইনভেস্টমেন্ট ৫,০০,০০০ থেকে হলো ৪,১০,০০০ টাকা, অর্থাৎ পুরোটার ওপর ১৮% পতন।

প্রশ্নটা নিজেকে করুন: "৩০% পতন" শুনতে বিমূর্ত লাগে, কিন্তু "৯০,০০০ টাকা কম" দেখলে আমি কি শান্ত থাকতে পারব, নাকি বিক্রি করে দেব? উত্তরটাই আপনার রিস্ক টলারেন্সের একটা সৎ মাপ। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • বাজার ভালো যাওয়ার সময় নিজের রিস্ক টলারেন্স মাপা, যখন সবাই নিজেকে সাহসী ভাবে।
  • শুধু বয়স দেখে রিস্ক ঠিক করা, আয়, ঋণ আর দায়িত্ব না দেখে।
  • ইমার্জেন্সি ফান্ড ছাড়াই রিস্কি ইনভেস্টমেন্টে যাওয়া।
  • রিস্ক টলারেন্স একবার ঠিক করে আর কখনো না ভাবা। বিয়ে, সন্তান, চাকরি বদল বা অবসরের কাছাকাছি গেলে এটা বদলায়।
মনে রাখুন

যতটা রিস্ক নিতে চান আর যতটা নেওয়ার সামর্থ্য আছে, দুটোর মধ্যে যেটা কম, সেটাকেই আপনার সীমা ভাবুন।

এর সঙ্গে আরও পড়ুন

সূত্র
রিস্ক টলারেন্সের সংজ্ঞা ("সামর্থ্য ও মানসিকতা") এবং বড় মার্কিন কোম্পানির শেয়ার গড়ে প্রায় প্রতি তিন বছরে এক বছর লোকসান: ইউএস এসইসি, "Beginners’ Guide to Asset Allocation, Diversification, and Rebalancing", দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
১৯ ডিসেম্বর ২০১০-এ ডিজেন ৬.৭২% পতন: দ্য ডেইলি স্টার (স্টার উইকেন্ড ম্যাগাজিন), কভার স্টোরি, ৩ জানুয়ারি ২০১১, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়। সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা সময়ের; আজকের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।