BETAসাইটটি এখনো তৈরি হচ্ছে; অনেক কিছু বদলাতে পারে

ডেট-টু-ইকুইটি

মালিকের প্রতি এক টাকার বিপরীতে কোম্পানি কত টাকা ধার বা দায় নিয়ে চলছে, তার মাপ। ঋণ ভালো সময়ে মুনাফা বাড়ায়, খারাপ সময়ে লোকসানও বাড়ায়।

ভিডিও আসছে
ডেট-টু-ইকুইটি: কোম্পানি কতটা ধারে চলছে

ডেট-টু-ইকুইটি কী

কোম্পানি তার সম্পদ কেনে দুই রকম টাকায়: মালিকের টাকা (ইকুইটি) আর অন্যের টাকা (ঋণ ও অন্যান্য দায়)। ডেট-টু-ইকুইটি রেশিও এই দুইয়ের অনুপাত। এক রকম হিসাবে, ডেট-টু-ইকুইটি = মোট দায় ÷ শেয়ারহোল্ডারস ইকুইটি। রেশিও ২ মানে মালিকের প্রতি এক টাকার বিপরীতে দুই টাকা দায়।

অনেক বিশ্লেষক শুধু সুদ দিতে হয় এমন ঋণ (ব্যাংক ঋণ, বন্ড ইত্যাদি) ধরেন, সরবরাহকারীর পাওনার মতো দায় বাদ দেন। দুই পদ্ধতিতে সংখ্যা অনেক আলাদা আসতে পারে। তাই কোন সংজ্ঞা ব্যবহার হয়েছে দেখে নিন, আর তুলনার সময় একই সংজ্ঞা রাখুন।

একটা উদাহরণ

ধরা যাক করিম ভাই ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটা ছোট পোলট্রি খামার করলেন: ৫ লাখ নিজের, ৫ লাখ ঋণ। তাঁর ডেট-টু-ইকুইটি ১। প্রতিবেশী সেলিম একই খামার করলেন ২ লাখ নিজের আর ৮ লাখ ঋণে; তাঁর রেশিও ৪। ভালো বছরে সেলিমের নিজের টাকার ওপর লাভের হার বেশি হতে পারে, কিন্তু মুরগির রোগ বা খাবারের দাম বাড়লে কিস্তি দিতে আগে বিপদে পড়বেন তিনিই। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।

একজন ইনভেস্টরের কাছে কেন জরুরি

  • ঝুঁকি বুঝতে: ঋণের সুদ আর কিস্তি মুনাফা হোক বা না হোক দিতে হয়। ঋণ বেশি হলে খারাপ সময়ে কোম্পানির টিকে থাকা কঠিন হয়।
  • শেয়ারহোল্ডারের সারিতে অবস্থান বুঝতে: কোম্পানি বন্ধ হলে আগে পাওনাদারেরা টাকা পান, শেয়ারহোল্ডার পান সবার শেষে, যা অবশিষ্ট থাকে।
  • ROE ঠিকভাবে পড়তে: বেশি ঋণ ROE-কে বড় দেখায়, তাই ROE দেখার সময় ডেট-টু-ইকুইটিও দেখা দরকার।
  • সুদের হারের প্রভাব বুঝতে: বাংলাদেশে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ঋণের সুদে ৯% সীমা ছিল, যা ১ জুলাই ২০২৩-এ তুলে নেওয়া হয়। এরপর গড় ঋণের সুদ বেড়েছে, যেমন জুন ২০২৬-এ ব্যাংকগুলোর গড় ছিল ১১.৮৬%। হার বদলায়, আর বেশি ঋণের কোম্পানির খরচ তাতে বেশি বদলায়।

ঋণ লাভও বাড়ায়, লোকসানও

ঋণের টাকায় ব্যবসা যদি সুদের হারের চেয়ে বেশি আয় করে, বাড়তি অংশটা মালিকদের লাভ। তখন ঋণ ROE বাড়ায়। কিন্তু আয় সুদের চেয়ে কমে গেলে উল্টোটা ঘটে: সুদ দিতে হয় পুরোটাই, তাই মালিকের লাভ দ্রুত কমে বা লোকসান হয়। একে বলে লেভারেজ বা ফাইন্যান্সিয়াল লেভারেজ।

কত ঋণ "বেশি"? খাত দেখে বিচার

  • সব খাতে এক মাপ চলে না। ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানত নিজেই দায়, তাই তাদের রেশিও স্বভাবতই অনেক বেশি; এদের অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
  • যে ব্যবসার আয় স্থির ও নিয়মিত, সে কিছুটা বেশি ঋণ সামলাতে পারে; যে ব্যবসার আয় মৌসুমি বা ওঠানামা করে, তার জন্য একই ঋণ বেশি বিপজ্জনক।
  • একই কোম্পানির রেশিও বছরের পর বছর কেমন বদলাচ্ছে, তা একটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু বলে। দ্রুত বাড়তে থাকা ঋণ প্রশ্ন তোলার কারণ।

সঙ্গে আর কী দেখবেন

  • ইন্টারেস্ট কাভারেজ = সুদ ও করের আগের মুনাফা ÷ সুদ খরচ। কোম্পানির আয় দিয়ে সুদ কত গুণ মেটানো যায়, তা দেখায়।
  • স্বল্পমেয়াদি বনাম দীর্ঘমেয়াদি ঋণ: এক বছরের মধ্যে বড় অঙ্ক শোধ করতে হলে নগদ টাকার চাপ পড়ে।
  • ক্যাশ ফ্লো: খাতার মুনাফা নয়, ব্যবসা থেকে আসা আসল নগদ টাকাই কিস্তি দেয়।
  • ঋণাত্মক ইকুইটি: জমা লোকসানে ইকুইটি শূন্যের নিচে চলে গেলে রেশিওর অর্থ থাকে না, আর সেটা নিজেই বড় সতর্কসংকেত।

হাতে-কলমে হিসাব

একই ব্যবসা, আলাদা ঋণ (শুধু হিসাব বোঝার জন্য)
  1. ধরা যাক দুটো কাল্পনিক কোম্পানির প্রত্যেকের সম্পদ ১০০ কোটি টাকা। "ক" পুরোটাই মালিকের টাকায় চলে (রেশিও ০)। "খ"-এর ৫০ কোটি ইকুইটি আর ৫০ কোটি ঋণ, বছরে ১২% সুদে (রেশিও ১)। হিসাব সহজ রাখতে কর বাদ।
  2. ভালো বছর, সুদের আগে মুনাফা ১৫ কোটি: "ক"-এর ROE ১৫ ÷ ১০০ = ১৫%। "খ" ৬ কোটি সুদ দিয়ে পায় ৯ কোটি, ROE ৯ ÷ ৫০ = ১৮%।
  3. খারাপ বছর, সুদের আগে মুনাফা ৫ কোটি: "ক"-এর ROE ৫%। "খ"-কে তবুও ৬ কোটি সুদ দিতে হয়, ফলে ১ কোটি লোকসান, ROE −২%।

ফল: ঋণ ভালো বছরে "খ"-কে এগিয়ে দিল, খারাপ বছরে লোকসানে ফেলল। ঋণ ব্যবসার ঝুঁকি কমায় না, শুধু মালিকের ভাগে লাভ-লোকসানের দোলা বাড়ায়। সংখ্যাগুলো উদাহরণ মাত্র।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • সব ঋণকেই খারাপ ভাবা। সঠিক মাত্রার ঋণ ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করে; প্রশ্ন হলো ব্যবসা তা সামলাতে পারে কি না।
  • ভিন্ন খাতের রেশিও সরাসরি তুলনা করা, বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কোম্পানির।
  • শুধু বেশি ROE দেখে খুশি হওয়া, পেছনের ঋণ না দেখা।
  • ধরে নেওয়া যে সুদের হার আর ঋণ পাওয়ার সুযোগ সব সময় একই থাকবে।
মনে রাখুন

ঋণ মালিকের লাভ-লোকসান দুটোই বড় করে: ডেট-টু-ইকুইটি দেখুন খাতের প্রেক্ষিতে, কয়েক বছরের ধারায়, আর সুদ মেটানোর ক্ষমতা ও নগদ প্রবাহের সঙ্গে মিলিয়ে।

এর সঙ্গে আরও পড়ুন

সূত্র
ডেট-টু-ইকুইটি = মোট দায় ÷ শেয়ারহোল্ডারস ইকুইটি, আর আদর্শ রেশিও খাতভেদে আলাদা: মার্কিন এসইসি, "Beginners’ Guide to Financial Statements", দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
ডেট-টু-ইকুইটি সলভেন্সি রেশিওর একটা: সিএফএ ইনস্টিটিউট, রিফ্রেশার রিডিং "Financial Analysis Techniques" (২০২৬), দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
ঋণের সুদে ৯% সীমা (এপ্রিল ২০২০ থেকে, ১ জুলাই ২০২৩-এ প্রত্যাহার): ঢাকা ট্রিবিউন, "Lending rate for banks hits 12.38% for February", ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
জুন ২০২৬-এ ব্যাংকগুলোর গড় ঋণের সুদ ১১.৮৬%: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, "June spread remains unchanged at 5.7pc", ২৬ আগস্ট ২০২৬, দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ ↗
এটি শিক্ষামূলক তথ্য, ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইস নয়। সংখ্যাগুলো উল্লেখ করা সময়ের; আজকের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনে নিন।